চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গত রোববার, ১৮ জানুয়ারী বাংলাদেশ ও চীন প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে। বৈঠকে চিকিৎসা পর্যটন সম্প্রসারণ এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর সম্ভাবনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল প্রকল্পে, যা একটি প্রধান স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত এবং উত্তর বাংলাদেশের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি চালু হলে চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশে বা বড় শহরে যেতে হবে না এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক চিকিৎসা পর্যটনের সুযোগ তৈরি হবে। চীনের রাষ্ট্রদূত বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোর প্রতি অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষই প্রকল্পটি সময়মতো সম্পন্ন করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং একে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।
এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক এই হাসপাতালটি নীলফামারীতে নির্মিত হবে, যেখানে উন্নত ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। এই প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলার রোগীদের সেবাও দেবে, ফলে ঢাকা ও রংপুরের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবার প্রাপ্যতা প্রতিবেশী অঞ্চলগুলো থেকেও রোগীদের আকৃষ্ট করতে পারে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি মাস্টারপ্ল্যান ও বিস্তারিত ব্যয় নিরূপণ প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে। গত বছরের ৩০ অক্টোবর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে একটি ‘জরুরি’ নোটিশ দিয়ে প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৮০ কোটি টাকা, যা সম্পূর্ণভাবে অনুদানের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে।
হাসপাতালটি নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নে সৈয়দপুর–নীলফামারী সড়কের পাশে দারওয়ানি টেক্সটাইল মিল সংলগ্ন ২৫ একর জমিতে নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকে তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। রাষ্ট্রদূত ইয়াও জানান, তিনি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পরিকল্পনা করছেন এবং চলমান কারিগরি মূল্যায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে চীনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থনও পুনরায় তুলে ধরেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য শুভকামনা জানান।