বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান নিয়ে চলমান আলোচনাকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। ভারত সরকার জানিয়েছে, তারা এ পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেছেন।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের সাম্প্রতিক ইসলামাবাদ সফরের সময় যুদ্ধবিমানসংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে এমন সব অগ্রগতির ওপর আমরা নিবিড় নজর রাখছি।’
বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলাকে ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক মতভিন্নতাসহ অন্যান্য কারণে সংঘটিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর বাজেভাবে আক্রমণের পুনরাবৃত্তি হতে দেখছি। চরমপন্থীরা তাদের বাড়িতে ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করছে।’
এ ধরনের ‘সাম্প্রদায়িক ঘটনাবলি’ দ্রুততার সঙ্গে ও দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করা দরকার উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এ সমস্যাজনক প্রবণতাও দেখছি, এ ধরনের ঘটনাগুলোকে ব্যক্তিগত শত্রুতা, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, রাজনৈতিক মতভিন্নতা ও অন্যান্য অপ্রাসঙ্গিক কারণে সংঘটিত বলে বলা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে শুধু চরমপন্থী ও এসব অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।’
আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় শুরু করার বিষয়ে দুই দেশের সিদ্ধান্তের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয় জয়সওয়ালকে। বিশেষ করে এ ফ্লাইটের জন্য ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির অনুমতির প্রয়োজন হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে বিমান পরিষেবা চুক্তি রয়েছে, সেই অনুযায়ী এ ধরনের বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হবে।’