বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ হিসেবে পরিচিত মারিয়া ব্রানিয়াস মোরেরা ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট ১১৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার দীর্ঘ জীবনের রহস্য খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা স্পেনের এই বৃদ্ধার জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নিবিড় গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, মারিয়ার দীর্ঘায়ুর পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে দই।
বার্সেলোনার জোসেপ ক্যারেরাস লিউকেমিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. মানেল এস্টেলার জানিয়েছেন, মারিয়া কখনো ধূমপান বা মদ্যপান করেননি, পরিমিত ব্যায়াম করতেন এবং নিয়মিত গ্রাম্য পরিবেশে হাঁটাহাঁটি করতেন।
তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, মারিয়া প্রতিদিন অন্তত তিনবার স্থানীয় ব্র্যান্ডের টক দই খেতেন। প্রোবায়োটিকের এই চমৎকার উৎসটি তার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে এতটাই সুস্থ রেখেছিল যে ১১৭ বছর বয়সেও তার জৈবিক বয়স ছিল প্রকৃত বয়সের চেয়ে ২৩ বছর কম। অর্থাৎ, তার শরীর ছিল প্রায় ৯৪ বছর বয়সীর মতো সবল।
পুষ্টিবিদদের মতে, দই কেবল ক্যালসিয়াম বা প্রোটিনের উৎস নয়, এতে থাকা ল্যাকটোব্যাসিলাস ও বিফিডোব্যাকটেরিয়ামের মতো জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া আমাদের অন্ত্রকে সুস্থ রাখে, যা সরাসরি শরীরের প্রদাহ কমায় এবং কোলেস্টেরল ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণা বলছে, যারা নিয়মিত দই খান, তাদের অকাল মৃত্যুহার অন্যদের চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ কম।
শুধু শরীর নয়, দইয়ের প্রোবায়োটিক মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং স্মৃতিশক্তি রক্ষা করতেও সাহায্য করে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন যে সব দই সমান উপকারী নয়। চিনিযুক্ত বা প্রক্রিয়াজাত ফলের দইয়ের চেয়ে সাধারণ টক দই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো। যারা দই পছন্দ করেন না, তারা বিকল্প হিসেবে কিমচি খেতে পারেন।
পরিশেষে গবেষকদের মত হলো, দীর্ঘ জীবন পেতে কেবল দই যথেষ্ট নয়; মারিয়ার মতো সুস্থ জীবনযাপন, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সামগ্রিক সমন্বয়ই হলো দীর্ঘায়ুর আসল চাবিকাঠি। সূত্র: সাগা ম্যাগাজিন