১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গ্রিনল্যান্ড কেন যুক্তরাষ্ট্রের দরকার, জানালেন ট্রাম্প

জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সুরক্ষার জন্য আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার।’

এছাড়া ডেনমার্কের অধীন আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটির সামরিক সুরক্ষা যথেষ্ট নয় বলেও দাবি করেন তিনি। গ্রিনল্যান্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত হিসেবে লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে নিয়োগ দেয়ার পর ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে।

ট্রাম্প ল্যান্ড্রিকে একজন দুর্দান্ত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘তিনি একজন চুক্তিপ্রিয় ব্যক্তি।’ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিজের অবস্থান আরও জোরালো করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য, খনিজ সম্পদের জন্য নয়। গ্রিনল্যান্ডের উপকূলজুড়ে তাকালে দেখা যাবে রুশ ও চীনা জাহাজ ঘুরে বেড়াচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আমাদের এটি দরকার। আমাদের এটি থাকা উচিত। গ্রিনল্যান্ড একটি বড় বিষয়।’

এর আগে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন এক যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানান, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীরই। তারা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়েও অন্য কোনো দেশ দখল করা যায় না। গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর এবং যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারে না।’

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন জানান, ট্রাম্পের এই নিয়োগের ব্যাখ্যা জানতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কেনেথ এ. হাওয়ারিকে তলব করা হবে। অন্যদিকে, জেফ ল্যান্ড্রি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এই স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্বে থেকে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত। এতে লুইজিয়ানার গভর্নর হিসেবে আমার দায়িত্বে কোনো প্রভাব পড়বে না।’

প্রসঙ্গত, প্রায় ৫৭ হাজার মানুষের বসতি গ্রিনল্যান্ডে ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। যদিও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের হাতে। অধিকাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী ডেনমার্ক থেকে চূড়ান্ত স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও, জনমত জরিপ বলছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ঘোর বিরোধী।

একসময় ডেনমার্কের উপনিবেশ থাকা গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সালে স্বশাসন লাভ করে এবং এখনো ডেনমার্কের একটি অঞ্চল হিসেবে রয়েছে। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে ৭৫.৫ শতাংশ ভোটার স্বশাসন আইনের পক্ষে মত দেন, যা ২০০৯ সালের ২১ জুন কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে ডেনমার্কের রাজ্যের ভেতরে থেকে গ্রিনল্যান্ড আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন লাভ করে, যদিও পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ডেনমার্কের।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিরা ডেনমার্ক দখল করলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হানা দেয় এবং সামরিক ও রেডিও স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে ঘাঁটি গড়ে তোলে। সেই সময় থেকেই গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন ঘাঁটি টিকে আছে। গত মার্চে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গ্রিনল্যান্ডের সেই ঘাঁটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘একটি চুক্তিতে আসার’ আহ্বান জানান। ১৯৫৩ সালে বন্ধ করে দেওয়ার পর ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ মার্কিন কনস্যুলেট পুনরায় চালু করা হয়। বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এবং কানাডারও গ্রিনল্যান্ডে অনারারি কনস্যুলেট রয়েছে। ]সূত্র: আনাদোলু