১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলায় তেলবাহী ট্যাংকার যাতায়াতে ‘সর্বাত্মক’ অবরোধের নির্দেশ ট্রাম্পের

ভেনেজুয়েলায় তেলবাহী ট্যাংকার যাতায়াতে ‘সর্বাত্মক’ অবরোধের নির্দেশ ট্রাম্পের

এর আগে, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ভেনেজুয়েলায় যাতায়াতকারী তেলবাহী বিভিন্ন ট্যাংকারের বিরুদ্ধে ‘অবরোধ’ আরোপের নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ বৃদ্ধি করেন তিনি। এছাড়া সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি এলাকা থেকে আটক করা একটি তেলবাহী ট্যাংকারও জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারটির বিরুদ্ধে মার্কিন সম্পদ চুরি করার পাশাপাশি ‘সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার ও মানব পাচারে’ জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন।

তিনি আরও লেখেন, ‘অতএব, আজ আমি ভেনেজুয়েলায় যাতায়াতকারী নিষেধাজ্ঞাভুক্ত সব তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক অবরোধ আরোপের নির্দেশ দিচ্ছি।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের এক সপ্তাহ পর। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার সরকার ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘বীভৎস হুমকি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। নিজের পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা ‘দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত গঠিত সবচেয়ে বড় নৌবহর দ্বারা সম্পূর্ণভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে’।

তিনি আরও বলেন, এই বাহিনী ‘আরও বড় হবে’ এবং পরিস্থিতি হবে এমন, ‘যা তারা আগে কখনো দেখেনি’। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, মাদুরোর সরকার চুরি করা তেল ব্যবহার করে ‘নিজেদের অর্থায়ন করছে, মাদক-সন্ত্রাসবাদ, মানব পাচার, খুন ও অপহরণে’ যুক্ত হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ করে আসছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ফেন্টানিলসহ অন্যান্য অবৈধ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা হচ্ছিল—এমন অভিযোগে নৌকায় চালানো হামলায় অন্তত ৯০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুদের অন্যতম ভেনেজুয়েলা পাল্টা অভিযোগ করেছে যে, ওয়াশিংটন তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করার চেষ্টা করছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন—উভয়ের শাসনামলেই যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে মাদুরো সরকারের বিরোধিতা করে আসছে এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র আরও ছয়টি জাহাজের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যেগুলো ভেনেজুয়েলার তেল বহন করছিল বলে দাবি করা হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কয়েকজন স্বজন এবং তার তথাকথিত অবৈধ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে। হোয়াইট হাউস জানায়, ‘স্কিপার’ নামের ওই জাহাজটি ‘অবৈধ তেল পরিবহনের’ সঙ্গে জড়িত ছিল এবং সেটিকে একটি মার্কিন বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে।

ভেনেজুয়েলার সরকার এই জব্দের ঘটনার নিন্দা জানায়। প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জাহাজটির ‘নাবিকদের অপহরণ করেছে’ এবং জাহাজটি ‘চুরি’ করেছে।অভিযানের কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উত্তরে অবস্থিত ক্যারিবীয় সাগরে তাদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপক জোরদার করে।

এই সামরিক প্রস্তুতিতে হাজার হাজার সৈন্য এবং বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’-কে ভেনেজুয়েলার অত্যন্ত কাছাকাছি (আক্রমণ করার মতো দূরত্বে) মোতায়েন করা হয়েছিল।

টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জোয়াকিন কাস্ত্রো বলেন, ট্রাম্পের ‘নৌ-অবরোধ নিঃসন্দেহে একটি যুদ্ধাপরাধ বা যুদ্ধের শামিল কাজ’।