১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমি রাজনীতিবিদ, সন্ত্রাসী নই, বলেছিলেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন।

তারেক রহমান ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন। এরপর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান তিনি। এর পর থেকে সে দেশেই আছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমান দেশের মাটিতে পা রাখছেন।

দেশ ছাড়ার আাগে তারেক রহমান ২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের ওপর তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা তুলে ধরেছিলেন। আদালতে জবানবন্দিতে তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের নামে রিমান্ডে নিয়ে আমাকে অজ্ঞাত স্থানে চোখ বেঁধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই নিগৃহীত করা হয়েছে। আমি একজন রাজনীতিবিদ, কোনো সন্ত্রাসী নই। আদালত আমার চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। এবার রিমান্ডে নিলে আমি আর বাঁচব না।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘শারীরিকভাবে এতটাই নির্যাতনের শিকার হয়েছি যে এখন মেরুদণ্ড সোজা করেও দাঁড়াতে পারছি না। চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আমাকে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা মোটা কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে নির্জন স্থানে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে।’

নির্যাতনের বিষয়ে সে সময়ে আদালতে দেওয়া চিকিৎসকদের রিপোর্টেও উঠে আসে ভয়াবহতা। মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়, রিমান্ডে নির্মম প্রহার ও শারীরিক নির্যাতনের ফলে তারেক রহমানের মেরুদণ্ডের ৬ ও ৭ নম্বর হাড় ভেঙে গেছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি হাড় স্থানচ্যুত বা বেঁকে গেছে। মেরুদণ্ডের ৩৩টি হাড়ের মাঝে দূরত্ব কমে যাওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দেয়। চিকিৎসকরা তখন জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে বিশেষায়িত অর্থোপেডিক চিকিৎসার সুপারিশ করেন।

আলোচিত ওয়ান-ইলেভেন : ২০০৬ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের রাজনীতি সংঘাতময় হয়ে ওঠে। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। পর্দার আড়ালে কলকাঠি নেড়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ। ক্ষমতায় বসেন ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। শুরু হয় যৌথ বাহিনীর অভিযান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ছিল মূলত রাজনৈতিক ‘উইচ হান্ট’ বা দমন-পীড়নের একটি মোড়ক। তাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে কোণঠাসা করে একটি ‘কিংস পার্টি’ বা অনুগত রাজনৈতিক শক্তি তৈরি করা। বিএনপির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে তারেক রহমান ছিলেন সেই সরকারের অন্যতম ‘টার্গেট’। তাঁকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া মানেই ছিল বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। এই লক্ষ্যেই ওই বছরের ৭ মার্চ গভীর রাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মইনুল রোডের বাসা থেকে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ মোট ১৭টি মামলা হয়। তারেক রহমানকে কয়েক দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়। সে সময় তারেক রহমান বলেছিলেন, রিমান্ডের জন্য তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়া হয়। সেটি জেআইসি (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) কি না সে প্রশ্ন ওঠেছিল।

এই ১৭ মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার