১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৫টি ওষুধের দাম কমাবে যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বীমা প্রোগ্রাম মেডিকেয়ার সম্প্রতি ১৫টি ব্যয়বহুল ওষুধের নতুন দাম নির্ধারণের ঘোষণা দিয়েছে। এতে এসব ওষুধ বাবদ খরচ ৩৬ শতাংশ কমানো সম্ভব হবে। ফলে ওষুধ খাতে ভোক্তাদের বার্ষিক নিট খরচ প্রায় ৮৫০ কোটি ডলার কমবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৭ সাল থেকে নতুন দাম কার্যকর করা হবে।

এ তালিকায় রয়েছে নভো নরডিস্কের জনপ্রিয় জিএলপি-১ ওষুধ সেমাগ্লুটাইড। এটি ডায়াবেটিস ও ওজন কমানোর জন্য ব্যবহার হয় এবং ওজেম্পিক ও ওয়েগোভি নামে বাজারজাত করা হয়। মাসভিত্তিক নির্ধারিত নতুন দাম হবে ২৭৪ ডলার, যা সাম্প্রতিক নিট দাম ৪২৮ ডলার ও তালিকামূল্যের ৯৫৯ ডলারের তুলনায় অনেক কম।

সবচেয়ে বেশি দাম কমানো হয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার লিউকেমিয়ার ওষুধ ক্যালকোয়েন্স, বোহেরিঙ্গার ইনগেলহেইমের ফুসফুসের ওষুধ ওফেভ ও ফাইজারের স্তন ক্যান্সারের ওষুধ আইব্রান্সের। প্রত্যেকটির দাম ব্যাপক মাত্রায় কমানো হয়েছে। এছাড়া জিএসকের অ্যাজমা ও সিওপিডির ইনহেলার ট্রেলেজি এলিপটা ও অ্যাভবির ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের (আইবিএস) ওষুধ লিনেজেসের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।

দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইনফ্লাশন রিডাকশন অ্যাক্টের (আইআরএ) অধীনে। আগে আইন অনুযায়ী মেডিকেয়ার কোনো ওষুধের দাম কমানোর জন্য কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করতে পারত না। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর ওষুধের দাম কমানোর হার বেশি হওয়ায় আর্থিক সাশ্রয় হবে বেশি।

নতুন নির্ধারিত এ দাম বয়োবৃদ্ধ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে সহায়তা করলেও তা এখনো অন্যান্য ধনী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের সমালোচকরা বলছেন, সরকার ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করলে প্রস্তুতকারকদের উদ্ভাবন ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মেডিকেয়ার আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে আরো ১৫টি ব্যয়বহুল ওষুধের দাম কমাবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এটি আরো স্বচ্ছতা তৈরি করবে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য বীমা প্রদানকারীকে অনুরূপ সাশ্রয় করার সুযোগ দেবে।