গত ১৯ অক্টোবর ওজনপার্কের একটি পার্টি হলে যুক্তরাষ্ট্র বিয়ানীবাজার সমিতির আসন্ন নির্বাচনে ভোটার তালিকা নিবন্ধনে ব্যাপক অনিয়ম ও নির্বাচন কমিশনের অসহযোগীতার প্রতিবাদে রফিক উদ্দীন তোতার সভাপতিত্বে ও আব্দুল কুদ্দুস টিটোর সঞ্চালনায় যুক্তরাষ্ট্রস্থ বিয়ানীবাজারবাসির পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ময়নুল হোসেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার সমিতির সাবেক সভাপতি বুরহান উদ্দীন কফিল ও আজিজুর রহমান সাবু, সদস্য ময়নুজ্জামান চৌধুরী, নুরুল ইসলাম খান, শরফ উদ্দিন ও গৌছ উদ্দিন খান।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পঠিত লিখিত বক্তব্যে বিয়ানীবাজার উপজেলার বাইরে থেকেও পুরুষ/মহিলাদের ভোটার নিবন্ধনের তথ্য তুলেকরা হয়। অসৎ উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে একই ভোটার ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা পরিবর্তন করে শত শত ভুয়া ভোটার নিবন্ধন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। সে সঙ্গে কার্যকরি পরিষদ কর্তৃক প্রণীত ভোটার তালিকায় ভোটার নম্বর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিবর্তনের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। কার্যকরি পরিষদ ও নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষণ করে নানা অনিয়ম, ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তিসহ ভুলভ্রান্তি ধরা পড়ার সঙ্গে উভয় তালিকায় ব্যাপক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। ভোটার তালিকায় ডাবল, ট্রিপল, মালটিপল, জেনারেল সদস্য, সিনিয়র সদস্যদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে ১১ ও ১৫ অক্টোবর দুটি আবেদন করে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে গত ১৭ অক্টোবর কমিশন বরাবর ডাকযোগে প্রেরিত ৩য় আবেদনেরও সদুত্তর পেতে ব্যর্থ হওয়ার সমিতির এহেন অনিয়ম ও জালিয়াতির সুবিচারের প্রার্থনায় আইনের আশ্রয় নেওয়া হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ভোটার তালিকা পর্যালোচনায় প্রতিয়মান হয় যে জেনারেল ভোটার, সিনিয়র ভোটারের ভুয়া অন্তর্ভুক্তি, ভোটার তালিকায় জেন্ডার/ লিংগ পরিবর্তনসহ নানা অনিয়ম ও কারসাজিতে সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রুহুল-অপু প্যানেলের সম্পাদক পদ প্রার্থীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। লিখিত বক্তব্যে ভোটার তালিকায় অনিয়মের বিষয়ে সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলামকে অবগত করা হয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পৌঁছাতে পারেননি বলেও উল্লেখ করা হয়। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয় আলোচনা ও পরামর্শ ব্যাতিরেকে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায় বাতিলকৃত উপদেষ্টাদের নিকট থেকে নির্বাচন কমিশন পরামর্শ গ্রহণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা আরো বলেন, নির্ভুল ও সুষ্ঠু ভোটার তালিকা প্রণয়নপূর্বক নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের নিকট থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না পেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন তাঁরা এবং সুষ্ঠু ভোটার তালিকা প্রণয়নে আবেদন কর্ণপাত না করায় শেষপর্যন্ত আদালতের শরনাপন্ন হতে বাধ্য হন। সংবাত সম্মলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সাবেক সভাপতিআজিজুর রহমান সাবু, রফিক উদ্দীন তোতা, আব্দুল কুদ্দুস টিটো ও ময়নুল হােসেন।