Screenshot
যুক্তরাষ্ট্রের সবচাইতে বড় নগরী নিউ ইয়র্ক সিটির জনগণের বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে যে সাড়ে তিন লক্ষ লোক চাকুরীরত তাদের পরিচালনার জন্য যে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার প্রয়োজন তা কি একজন এসেম্লীম্যানের আছে, এ প্রশ্নটি কেউ করছেনা এমন অভিযোগ আগামী ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নিউ ইয়র্ক সিটির আসন্ন মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক গভর্ণর এন্ড্রু কুমোর।
গত ১২ অক্টোবর রোববার সকালে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমোর সাথে ‘সাউথ এশিয়ান মিডিয়া রাউন্ডটেবিল’ শীর্ষক ভ্যার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় মেয়র প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো সাউথ এশিয়ান মিডিয়া কর্মীদের কাছে প্রশাসনিক কার্যক্রমে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, মেয়র হিসেবে বিভিন্ন পরিকল্না ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া তুলে ধরে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
মূলধারার রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী ফাহাদ সোলায়মানের তত্তাবধানে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মেয়র প্রার্থী ক্যুমো বলেন, বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটি আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। জননিরাপত্তা, শিক্ষা, বাসস্থান, মানসিক স্বাস্থ্যসহ সকল ক্ষেত্রেই নিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে, তাই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অতিব জরুরী।
ক্যুমো আরো বলেন, আমি শুধু নিউইয়র্কের জন্যই অভিজ্ঞ নই, ফেডারেল স্তরেও অতীতে কাজ করেছি। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের আমলে আমি ছিলাম যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং ও আরবান ডেভেলপমেন্ট (হার্ড)-এর সেক্রেটারি। এর পর ১১ বছর নিউইয়র্কের গভর্নর হিসেবে এই স্টেট পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে আমার।

তিনি বলেন, এই শহর এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বই একমাত্র পথ দেখাতে পারে। প্রাক্তন গভর্নর কুমো বলেন, পোস্ট-কোভিড যুগে নিউইয়র্কসহ মার্কিন শহরগুলো ধনী জনগোষ্ঠির স্থানান্তর, জননিরাপত্তাহীনতা এবং শিক্ষা সংকটে ভুগছে।
মানুষ এখন ভালো স্কুল ও নিরাপদ পরিবেশের খোঁজে নিউ ইয়র্ক শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এর মধ্যেই ‘ফার লেফট’ বা চরম উদারনৈতিক মতাদর্শ শহর পরিচালনায় জটিলতা তৈরি করেছে। তিনি জানান, নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুল ব্যবস্থা ঠিক করতে আমি মেয়রাল কল্ট্রোল পুনর্বহাল করব। বিশেষ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ‘গিফটেড আ্যান্ড ট্যালেন্টেড প্রোগ্রাম’ ও বিশেষায়িত হাই স্কুলের সংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কুমো বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট পরিসরে চলে এসেছে আমি ক্ষমতায় এলে আরো ৫ হাজার পুলিশ যুক্ত করবো, যার মধ্যে দেড় হাজার জন সাবওয়ে সিস্টেমে মোতায়ন করা হবে। মানুষকে নিরাপদ বোধ করাতে হবে, আর পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনতে হবে। অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি স্কুদ্র ব্যবসার প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেন।
তিনি আরো বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধরা সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করছে। এই সহযোগিতার ধারা ব্যহত হতে দেয়া যাবে না। তিনি বলেন,নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে, ততোই জোহরান মামদানির সাথে আমার সমর্থনের ব্যবধান কমে আসছে। তিনি সাউথ এশিয়ানদের প্রতি তার পুর্বের কর্মকান্ড তুলে ধরে বলেন,শহরের অর্থনীতি ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থিতিশীল নেতৃত্বের জন্যে আমাকে সমর্থন দিন। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে আমার প্রশাসনে সাউথ এশিয়ান ব্যক্তিবর্গ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন, এর মধ্যে বাংলাদেশীরাও থাকবেন।
‘অভিজ্ঞ প্রশাসক’ হিসেবে নিজেকে দাবী করে ক্যুমো নিউইয়র্কবাসীদের সেবা করার সুযোগ চেয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে আগ্রহি নন। তার ধ্যান ও প্রচেষ্টা শুধু নিউইয়র্ক নিয়ে। আমি পুনরায় সবার শহর হিসেবে ‘নিউইয়র্ক’কে গড়ে তুলতে চাই।
ভ্যার্চুয়াল সভাটি সঞ্চালনা করেছেন মিসেস মোনা। সহায়তা করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার ড. দিলীপ নাথ, কমিউনিটি বোর্ড সদস্য ফাহাদ সোলায়মান।
ফাহাদ সোলায়মান আরো বলেন, জোহরান মামদানি চার বছর ধরে স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও নিজেকে মুসলমান হিসেবে কখনো তুলে ধরেননি, এখন কেবল ভোটের জন্য কমিউনিটিকে কাছে টানার চেষ্টা করছেন।