মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ার পর পদত্যাগ করছেন টেনেসি স্টেটের কারাপ্রধান। শনিবার (০৩ অক্টোবর) টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের কমিশনার ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডার সাথে এক যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান গভর্নর বিল লি। স্ট্রাডা বলেন, তার পদত্যাগ স্টেটের “সর্বোত্তম স্বার্থে” এবং এই ঘটনার ওপর চলমান তদন্ত “পুরোপুরি উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয়”।
১৯৯৫ সালে কলিন স্লেমায়ারের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হয়ে ১৯৯৬ সালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হওয়া পাইক গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ) দুটি প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পরও বেঁচে যান। বর্তমানে তিনি টেনেসির একটি হাসপাতালে সংকটজনক অবস্থায় রয়েছেন এবং তার আইনজীবীরা তার সাজা কমানোর চেষ্টা করছেন।
গভর্নর লি বলেন, ‘কমিশনার স্ট্রাডা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই কঠিন মুহূর্তে টেনেসির নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তার এই ইচ্ছাকে আমি সম্মান জানাই।’
লি ইতোমধ্যেই ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থ চেষ্টার ওপর একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং চলতি বছরের জন্য রাজ্যের সমস্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করেছেন।
পাইকের আইনজীবীরা পদত্যাগের এই সিদ্ধান্তকে “যৌক্তিক” বলে অভিহিত করেছেন, তবে তাদের মতে, ‘এটি এখন ক্রিস্টাকে কোনো সাহায্য করবে না।’
পাইকের লিগ্যাল টিম এক বিবৃতিতে লেখেন, ‘বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তার সাথে যা ঘটেছে তা একটি পদ্ধতিগত ব্যর্থতার প্রতিফলন, যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ওপর বর্তায় না। আমরা আশা করি গভর্নরের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের আহ্বান টেনেসির পুরো মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার ভেতরের গভীর সমস্যাগুলোকে সামনে নিয়ে আসবে।’
আইনি নথি অনুযায়ী, পাইককে বর্তমানে টেনেসির ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে চিকিৎসকরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রয়োগ করা ওষুধ তার শরীর থেকে অপসারণের চেষ্টা করছেন।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তাকে পেন্টোবার্বিটালের দুটি প্রাণঘাতী ডোজ ইনজেকশন দেওয়া হলেও তিনি জীবিত থেকে যান। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুটি ডোজ দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে “তাকে কাঁদতে, ফোঁপাতে এবং জোরে শ্বাস নিতে শোনা গেছে” বলে জানান তার আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেটরে কৃত্রিম শ্বাসে চিকিৎসাধীন ছিলেন। টেনেসী স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন তাদের ব্যবহৃত পদ্ধতির পক্ষে বলেন, ‘যা সম্পন্ন করা হয়েছে, আমাদের বিধিমালা তার বাইরে অতিরিক্ত কোনো প্রক্রিয়ার অনুমতি দেয় না।’
পাইকের মৃত্যুদণ্ড তারা পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করবে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি। ঠিক কী ত্রুটি ঘটেছিল, তারও কোনো ব্যাখ্যা তারা দেয়নি। এদিকে পাইকের আইনজীবীরা গত শুক্রবারে (০২ অক্টোবর) ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সম্পর্কিত “যেকোনো এবং সমস্ত প্রমাণ” সংরক্ষণ করতে একটি জরুরি আবেদন দায়ের করেছেন।
পাইকের আইনজীবীরা আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন যে, তার চিকিৎসাগত ইতিহাস ও শারীরিক গঠন—বিশেষ করে থ্রম্বোসাইটোসিস (রক্ত জমাট বাঁধার এক ধরনের সমস্যা) এবং সরু শিরা থাকার কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের সময় তার “অযাচিত” যন্ত্রণা ও কষ্ট পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পাইকের আইনজীবীদের একাধিক শেষ মুহূর্তের আইনি আবেদন ব্যর্থ হওয়ার পরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার দুটি পৃথক আইনি প্রচেষ্টা বাতিল করে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়া টেনেসির একমাত্র মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী বন্দি পাইকের ক্ষমার আবেদনটি নাকচ করে দেন স্টেটের গভর্নর।
১৯৯৫ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে পাইক এবং তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপ মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমায়ারকে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেন। টেনেসির নক্সভিলে হওয়া এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে তুমুল আলোড়নের সৃষ্টি হলে পরের বছর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।













