শোক-সমবেদনা আর স্মরণ সভাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশী-আমেরিকানস ইন নিউ ইয়র্ক’ ব্যানারে এদিন জ্যামাইকার একটি পার্টি হলে বিশেষ স্মরণ ও আলোচনা সভা আনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা নিহতদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং নিহত ও আহতদের পবিরারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশী-আমেরিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সকল জাতীয় দিবস পালন করা আমাদের দায়িত্ব। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশীরা প্রথম, দ্বিতীয় প্রজন্ম পেরিয়ে তৃতীয় প্রজন্মে পা দিয়েছেন।

তাই সকল প্রজন্ম মিলেই যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। সভায় বক্তরা বলেন ৯/১১ এর ঘটনা নিছকই একটা সন্ত্রাসীদের ঘটনা আর সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম-বর্ণ নেই। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের এই দিনে এক সন্ত্রাসী হামলায় ৭জন বাংলাদেশী সহ প্রায় তিন হাজারের মত মানুষ নিহত হয়েছিল, আহত হয়েছে অগুনতি। ধ্বংশ হয়েছে নিউইয়র্কের আইকনিক দুই ভবন টুইন টাওয়ার অর্থাৎ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার।

আহতদের অনেকে আজও দু:সহ যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। সভার শুরুতে প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন স্মরণ সভা আয়োজকদের অন্যতম সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক সাঈদ তারেক এবং অপর আয়োজক আজিজুল হক মুন্না। এরপর নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

স্মরণ সভা আয়োজকদের অন্যতম শেখ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চাচালনায় সভায় স্মৃতিচারণ করে আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মহসীন পাটোয়ারী, প্রবীণ প্রবাসী নাসির আলী খান পল, সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক ড. আবেদীন কাদের, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ ও আজমল হোসেন কুনু,

ঘটনার দিন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে কর্মরত নিরাপত্তা পরিচালক আজিজুর রহমান, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা এবিএম ওসমান গনি, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, স›দ্বীপ সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, কমিউনিটি বোর্ড মেম্বার শেখ শাহজাহান, এডভোকেট মজিবর রহমান এবং জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শুভ্র দেব।

এছাড়াও কবিতা আবৃত্তি করেন শামস আল মমিন এবং আবৃতির ছলে ৯/১১ ঘটনার গল্প তুলে ধরেন শ্যামা হাই। আয়োজকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক মাহমুদ খান তাসের, নজরুল একাডেমির কিউ জামান ও শাহ আলম দুলাল।

সভায় কোন কোন বক্তা বলেন নিরপরাধ মানুষ হত্যা কোন জ্বেহাদী কর্মকান্ড নয়, সবচেয়ে বড় কথা এই জ্বেহাদে ইসলামের কোন উপকার হয়নি। বিগত ২৫ বছর পরও ইসলামের জায়গায় ইসলাম আছে, যারা এই তথাকথিত জ্বেহাদ করতে গিয়েছিলো তারা ধ্বংশ হয়ে গেছে, সাথে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে নরক বানিয়ে দিয়ে গেছে। লক্ষ লক্ষ মুসলমান হত্যার ক্ষেত্র তৈরী করে দিয়ে গেছে।

বক্তারা বলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র এবং মানবিক মূল্যবোধের সৌন্দর্য্য হচ্ছে এখানে- ওই ঘটনার পরও সরকার এবং ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মুসলামানদেরকে রক্ষা বা তাদের ওপর যে কোন হামলা প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছে, ইহুদী পুলিশ মসজিদ পাহাড়া দিয়েছে খ্রীস্টান পুলিশ মুসলিমদেরকে আগলে রেখেছে- এটাই আমেরিকা।

বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক নবযুগ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাগর, সাপ্তাহিক হককথা ও আজকের টেলিগ্রাম সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ সহ বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী-আমেরিকান সভায় উপস্থিতি ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি “কমিউনিটি টিভি” সড়াসড়ি সম্প্রচার করে। খবর ও ছবি ইউএনএ’র।














