৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

বিশেষ প্রশিক্ষণের পর অভিবাসন মামলায় অতিরিক্ত সময় সীমিত করতে নির্দেশ দেয়া হলো ইমিগ্রেশন বিচারকদের

বিশেষ প্রশিক্ষণের পর অভিবাসন মামলায় অতিরিক্ত সময় সীমিত করতে নির্দেশ দেয়া হলো ইমিগ্রেশন বিচারকদের

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বা গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের মামলায় অতিরিক্ত সময় দেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে ইমিগ্রেশন বিচারকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বৈধ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অনেক আবেদনকারী চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই ডিপোর্টেশনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এর উদ্যোগে কয়েক শ ইমিগ্রেশন বিচারককে বাধ্যতামূলক অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেখানে মামলার শুনানি মুলতবি রাখার আবেদন বা ‘কন্টিনিউয়েন্স’ কঠোরভাবে সীমিত করে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কন্টিনিউয়েন্সের মাধ্যমে সাধারণত একজন অভিবাসী আইনজীবী খোঁজা, মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা অথবা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসে বিচারাধীন ভিসা ও গ্রিন কার্ড আবেদনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার সময় পান।

‘মোশনস টু কন্টিনিউ: এফিশিয়েন্টলি অ্যাডভান্সিং কেসেস টু কমপ্লিশন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসের বিচারক কিথ হানসাকার। গার্ডিয়ানের হাতে আসা প্রশিক্ষণের স্লাইডে বলা হয়েছে, কোনো পক্ষ যথেষ্ট তৎপরতা না দেখিয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগে বিলম্ব করলে তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া যুক্তিসংগত নয়।

প্রশিক্ষণে বিচারকদের কোনো অভিবাসীকে আইনজীবী খোঁজার জন্য ১০ দিনের বেশি সময় না দিতেও উৎসাহিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এটি নতুন কোনো আইন বা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত বিধি নয়। বরং বিদ্যমান আইন ও নীতির কঠোর প্রয়োগের নির্দেশনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বর্তমান বিধি অনুযায়ী, যথার্থ কারণ দেখাতে পারলে বিচারক শুনানি মুলতবি করতে পারেন। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের সিদ্ধান্তেও এই ‘গুড কজ’ মানদণ্ডের কথা রয়েছে।

এই নির্দেশনায় বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে নির্যাতিত, পরিত্যক্ত বা অবহেলিত শিশুদের জন্য নির্ধারিত স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল স্ট্যাটাস এবং গুরুতর অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ইউ ভিসার আবেদনকারীদের। ইউএসসিআইএসের প্রক্রিয়াগত বিলম্ব ও বার্ষিক কোটা শেষ হওয়ার কারণে অনুমোদিত আবেদন থাকা সত্ত্বেও অনেককে দীর্ঘদিন ভিসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু ভিসা অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকার কারণে ডিপোর্টেশন মামলা স্থগিত না-ও রাখা হতে পারে।

এমনকি কারও ভিসা পিটিশন অনুমোদিত হলেও বার্ষিক কোটা বা অগ্রাধিকার তারিখের কারণে ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না গেলে তাঁর ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হতে পারে। ডিপোর্টেশন আদেশ কার্যকর হলে তাঁর বৈধভাবে থাকার কিছু পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইনজীবীরা বলছেন, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে একজন দক্ষ ইমিগ্রেশন আইনজীবী খুঁজে পাওয়া অনেক আবেদনকারীর জন্য কঠিন। আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের হিসাবে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে আইনজীবী থাকা অভিবাসীদের ২৬ দশমিক ৯ শতাংশকে ডিপোর্টেশনের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। আইনজীবী না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ। সংস্থাটির গবেষণায় আইনি প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে মামলার ফলাফলের বড় পার্থক্য দেখা গেছে।

ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস জানিয়েছে, প্রায় ৩২ লাখ বিচারাধীন মামলা দ্রুত কমানো প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। সংস্থাটির দাবি, আইন মেনে ন্যায়সংগত, দ্রুত ও অভিন্নভাবে মামলার শুনানি করা হচ্ছে। এক্সিকিউটিভ অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউও বলেছে, অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব বৈধ দাবিদার এবং দ্রুত নিষ্পত্তি প্রত্যাশী জনগণ উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত দ্রুততার কারণে বৈধ আবেদন থাকা ব্যক্তিরাও আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ হারিয়ে ডিপোর্টেশনের মুখে পড়তে পারেন।