১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

নিউইয়র্কে জমকালো আয়োজনে, আশানুরুপ দর্শক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অনুপস্থিতিতে প্রথমবারের মতো ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড’ অনুষ্ঠিত

নিউইয়র্কে জমকালো আয়োজনে, আশানুরুপ দর্শক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অনুপস্থিতিতে প্রথমবারের মতো ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড’ অনুষ্ঠিত

নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সাউথএশিয়ান ইউনিটি প্যারেড’ (এসএইউপি)। গত ৯ আগষ্ট রোববার দুপুরে নিউ ইয়র্ক সিটির হাইটস এলাকার ৩৭ এভিনিউ’র ৬৯ স্ট্রীট থেকে ৮৭ স্ট্রীট এলাকায়এই প্যারেডে অনুষ্ঠিত হয়।

 

‘এক অঞ্চল ক্স এক সংস্কৃতি ক্স একভবিষ্যৎ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে অনুষ্ঠিত প্যারেডে দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ওমালদ্বীপ-এর প্রবাসী জনগণের মধ্যকার ঐক্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রজোরদার করার পাশাপাশি দেশগুলোর শিল্প-সংস্কৃতি আমেরিকানদের মাঝেতুলে ধরাই ছিলো মূল লক্ষ্য।

তবে প্যারেডে সংশ্লিস্ট দেশগুলোর পক্ষে উপস্থিত প্রতিনিধিদের সংখ্যা ছিলো কম। যা আয়োজকদের সহ কমিউনিটিকে হতাশকরেছে। শুধু বাংলাদেশের একাধিক সংগঠন, পাকিস্তান ও নেপালের একটি করে সংগঠনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে ।

ভারত, শ্রীলংকা এবং ভুটানের প্রতিনিধিত্বকারী কোন সংগঠনকে এবারের ১ম সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প‍্যারেডে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। ১ম ‘সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড’ প্যারেডটির আয়োজক সংগঠন ছিলো বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক। কিন্তু প্যারেড আয়োজনে সোসাইটির ভুমিকা ছিল “সহযোগী” আয়োজকের মত।

প্যারেড আয়োজনে মূল ভুমিকা ছিল চীফ কো অর্ডিনেটর শাহ শহীদুল হক এর। পৃষ্টপোষকতায় ছিলেন গোল্ডেন এজ হোমকেয়ার এর সিইও ও বাংলাদেশ সোসাইটি নিউ ইয়র্কের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান জনাব শাহ নেওয়াজ। এবারের ১ম প্যারেডের পুরো আয়োজন ছিল অগোছালো, বিশৃঙ্খল। লোক সমাগম আশানুরূপ হয়নি। আমন্ত্রিত অতিথিদের বেশিরভাগই ছিলেন অনুপস্থিত ।

প্যারেড অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানিকে ‘প্যারেডঅ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে উল্লেখ এবং কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডনভ্যান রিচার্ডস(জুনিয়র) এবং ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ-কে বিশেষ সম্মানীত অতিথি ঘোষণা করা হলেও তারা ছিলেন অনুপস্থিত।

এছাড়াও পোষ্টারে যে সব অতিথিও শিল্পীদের নাম ছিল তাদের সিংহভাগ ব্যক্তিকে প্যারেডে অনুপস্থিত দেখাযায়। প্যারেডে গেস্ট অব অনার ছিলেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘ডিষ্ট্রিক্ট লিডার এ্যাটলার্জ’ এটর্নী মঈন চৌধুরী।

একাধিক সুত্র জানিয়েছে, প্যারেড আয়োজনে মূল ভুমিকায় একজন ঘোষিত রিপাবলিকান পার্টির লোক চীফ কো অর্ডিনেটর শাহ শহীদুল হক থাকায় ডেমোক্রেটিক দলের জনপ্রতিনিধিরা প্রায় সবাই শেষ মুহূর্তে প্যারেডে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র মামদানী ঐদিন দুপুরে ডোমিনিকান ডে প্যারেডে অংশ নিলেও ১ম সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প‍্যারেডে অংশগ্রহণ করেন নি।

প্যারেড শেষেসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও তাও হয়নি। সকাল ৯টায় প্যারেড শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে দুপুর সোয়া বারোটায় জ‍্যকালনা হাইটসের ৩৭ এভিনিউ’র ৬৯ স্ট্রীট থেকে প্যারেড শুরু হয়।

এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাষ্টি বোর্ডচেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্যারেডের গ্র্যান্ড মার্শাল শাহ নেওয়াজ। এসময় বাংলাদেশ সোসাইটি নিউ ইয়র্কের আতাউর রহমান সেলিম, সহ সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল ও সাধারণসম্পাদক মোহাম্মদ আলী, ট্রাষ্টি বোর্ড সদস্য আজহারুল ইসলাম মিলন, নাঈম টুটুল, আজিজুর রহমান বুরহান, নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান ষ্টিভেন রাগা, ডেমোক্র্যাট দলীয় মূলধারাররাজনীতিক হাইরাম মানসেরাত সহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্যারেড পরিচালনা করেন প্যারেড কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী শাহ শহিদুল হক। প‍্যারেডের শুরুতে বক্তৃতা পর্ব উপস্থপনায় ছিলেন সোনিয়া শারমীনা সিরাজ। প্রচন্ড রোদ আর গরম উপেক্ষা করে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের দুটি অশ্বারোহীরনেতৃত্বে প্যারেড শুরু হয়।

এরার এনপিডি’র ব্যান্ড দলের বাজনার তালে তালেপ্যারেড শুরু হয়। প্যারেডে বাংলাদেশী সংগঠন ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটি সার্ভিস, ইয়ুথ ফর দ্য ইয়ুথ, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি, বগুড়া সোসাইটি ইউএসএ, প্রবাসীসিরাজগঞ্জ জেলা সমিতি, চিটাগাং এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা(একাংশ), বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি, প্রবাসী মতলব সমিতি, হৃদয়বীনা সঙ্গীত নিকেতন, বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতন, এনওয়াই সাইবারবিজনেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি লায়ন্স ক্লাব এবং নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশন ছাড়াওনেপালের ‘গীরিজা প্রসাদ কৈরালা ফাউন্ডেশন’, ও পাকিস্তানীদেরমালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট জ্যাকসন হাইটসের ‘ডেরা রেস্টুরেন্ট’ এর ব্যানার নিয়েসংশ্লিস্টদের প্যারেডে অংশ নিতে দেখা যায়।

আরো ছিলো নিউইয়র্ক পুলিশব্যান্ড, এনওয়াইপিডি দেশী। অংশগ্রহনকারী অনেকেরই হাতে ছিলো যুক্তরাষ্ট্র ওবাংলাদেশের পতাকা। এছাড়াও সংশ্লিস্ট দেশের অংশগ্রহণকারীরা স্ব স্ব দেশেরপতাকা বহন করেন।

এছাড়াও প্যারেড ফ্লট ছিল ৯টি। এগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ সোসাইটি, অ্যলকাউন্টি হোমকেয়ার, হাজিগঞ্জ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, জ্যাকসন হাইটসএলাকাবাসী, ডেরা রেস্টুরেন্ট, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনক, গোল্ডেন এজ হোমকেয়ার, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এবং চ্যানেল আই। খবর ইউএনএ’র।