১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

টিপিএস বাতিলের পর “স্যাংচুয়ারী সিটি” হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের চাকরি হারালেন কয়েক ডজন হাইতিয়ান কর্মী

টিপিএস বাতিলের পর “স্যাংচুয়ারী সিটি” হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের চাকরি হারালেন কয়েক ডজন হাইতিয়ান কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের চুড়ান্ত রায়ের পর টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএস হারানো বেশ কয়েকজন হাইতিয়ান কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হাইতিয়ান নাগরিকদের এই সুরক্ষা বাতিলের পথ পরিষ্কার হওয়ায় কর্মীদের বৈধ কাজের অনুমতি আর কার্যকর না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ।

নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, সিটি প্রশাসন নিজ উদ্যোগে এসব কর্মীকে ছাঁটাই করতে চায়নি। ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতার কারণেই কর্মীদের কাজের অনুমতির বিষয়টি পর্যালোচনা করে যাদের বৈধভাবে কাজ করার অন্য কোনো অনুমতি নেই, তাদের চাকরি থেকে আলাদা করতে হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক সিটি হলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ জুলাই টিপিএসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হাইতিয়ান কর্মীদের চাকরির বৈধতা পর্যালোচনা করা হয়। গত ৭ আগস্ট শুক্রবার নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ কয়েকজন কর্মীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে। প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে আক্রান্ত কর্মীর সংখ্যা ‘এক ডজনের বেশি’ থেকে ‘কয়েক ডজন’ বলা হয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ নগরীর হাসপাতাল ব্যবস্থায় কাজ করতেন।

নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র মামদানি গত ৩ আগস্ট সোমবার জানান, এই পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য টিপিএস পুনর্বহাল অথবা বিকল্প হিসেবে ডিফার্ড এনফোর্সড ডিপারচার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মেয়র মামদানির ভাষ্য অনুযায়ী, টিপিএস পুনর্বহাল কিংবা এ ধরনের বিকল্প সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা ফেডারেল সরকারের হাতে রয়েছে।

টিপিএস এমন একটি সাময়িক ইমিগ্রেশন সুরক্ষা, যার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা নিজ দেশে চলমান যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গুরুতর মানবিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কাজের অনুমতি পেয়ে থাকেন। হাইতির নাগরিকদের জন্য এই সুরক্ষা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ছিল।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তের পর ট্রাম্প প্রশাসনের হাইতির টিপিএস বাতিলের পথে থাকা আইনি বাধা কার্যত দূর হয়ে যায়। এরপর আগস্টের শুরুতে ফেডারেল আদালতও আগের সেই নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর নেই বলে নিশ্চিত করে। ফলে হাইতিয়ান টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।

নিউইয়র্ক সিটির জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাইতিয়ান অভিবাসীরা নগরীর স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। টিপিএস বাতিলের ফলে শুধু সরকারি কর্মী নয়, বেসরকারি খাতের বহু কর্মীরও চাকরি ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মামদানি জানিয়েছেন, চাকরি হারানো কর্মীদের পাশে থাকার জন্য নগর সরকার আইনি পরামর্শ, নতুন ধরনের কাজের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই এবং স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে টিপিএস পুনর্বহাল না হলে এসব কর্মীর ভবিষ্যৎ অনেকটাই ফেডারেল সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

টিপিএস বাতিলের প্রভাব নিউইয়র্কের বাইরেও ব্যাপক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান নাগরিক এই সুরক্ষার আওতায় ছিলেন। তাদের অনেকেই বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, কাজ করছেন এবং পরিবার গড়ে তুলেছেন। এখন টিপিএস বাতিলের কারণে তাদের বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মেয়র মামদানির ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি নিউইয়র্কের অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সিটি প্রশাসন একদিকে ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়েছে, অন্যদিকে একই সময়ে টিপিএস পুনর্বহালের জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে অভিবাসন অধিকার, কর্মসংস্থান এবং ফেডারেল বনাম স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।