ইউ.এস. বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইউএসবিসিসিআই)-এর উদ্যোগে গত শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, নিউইয়র্কের নিউ ইয়র্ক লাগার্ডিয়া এয়ারপোর্ট ম্যারিয়টে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩য় ইউএসবিসিসিআই রিয়েল এস্টেট এক্সপো ২০২৬।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়। রিয়েল এস্টেট পেশাজীবী, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতা, কমিউনিটি ও ইন্ডাস্ট্রি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা এ এক্সপোতে অংশগ্রহণ করেন।
রিয়েল এস্টেট, মর্টগেজ, ফাইন্যান্স, আইন, ব্যাংকিং, বিনিয়োগ, ট্যাক্স, বীমা এবং প্রযুক্তি খাতের শতাধিক পেশাজীবী এই আয়োজনে অংশ নেন। এক্সপোটি নেটওয়ার্কিং, জ্ঞান বিনিময়, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।
এই এক্সপোর মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে বাড়ি কেনা, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ, আর্থিক পরিকল্পনা এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। বিশেষ করে যারা প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহী, তাদের জন্য এক্সপোটি একটি “ওয়ান-স্টপ রিয়েল এস্টেট ও বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম” হিসেবে কাজ করেছে, যেখানে তারা একই ছাদের নিচে বিশ্বস্ত পেশাজীবীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পেয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউএসবিসিসিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও সিইও মো. লিটন আহমেদ, গ্রেটার নিউ ইয়র্ক চেম্বার অব কমার্স-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও মার্ক জ্যাফে, টার্কিশ আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইউএসএ-এর প্রেসিডেন্ট আলী কোচাক, লং আইল্যান্ড বোর্ড অব রিয়েলটরস®-এর প্রেসিডেন্ট শান খান-সহ ব্যবসা ও রিয়েল এস্টেট খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং কমিউনিটি ও ইন্ডাস্ট্রি নেতৃবৃন্দ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউ.এস. বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও সিই মো. লিটন আহমেদ, বলেন: “আজকের এই এক্সপো প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ-আমেরিকান কমিউনিটি রিয়েল এস্টেট, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্রমেই আরও সচেতন ও আগ্রহী হয়ে উঠছে। ইউএসবিসিসিআই সবসময় কমিউনিটির অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এই এক্সপো শুধু একটি ব্যবসায়িক আয়োজন নয়; বরং এটি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ গঠন, বিনিয়োগ জ্ঞান বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।
দিনব্যাপী আয়োজনে বর্তমান রিয়েল এস্টেট মার্কেট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। “এআই অ্যাডভান্টেজ: টেক টুলস দ্যাট ক্লোজ ডিলস ফাস্টার” সেশনে রিয়েল এস্টেট খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং, স্মার্ট লিড জেনারেশন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।
“মার্কেট পালস ২০২৬: রেটস, ডিলস অ্যান্ড হোয়াটস নেক্সট” সেশনে বর্তমান মার্কেট পরিস্থিতি, সুদের হার, বাড়ির চাহিদা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং ২০২৬ সালের রিয়েল এস্টেট ট্রেন্ড নিয়ে আলোচনা হয়।
“ফেইথ অ্যান্ড ফাইন্যান্স: হালাল হোম লোনস অ্যান্ড লিগ্যাসি প্ল্যানিং” সেশনে শরিয়াহসম্মত হোম ফাইন্যান্সিং, পরিবারভিত্তিক সম্পদ পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের জন্য “কিজ টু ইয়োর ফার্স্ট হোম: ইনসাইডার গাইড ফর নিউ বায়ার্স” সেশনে ক্রেডিট স্কোর, ডাউন পেমেন্ট, মর্টগেজ অনুমোদন, প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য প্রোগ্রাম এবং বাড়ি কেনার ধাপসমূহ নিয়ে বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়া “আনলকিং ইনভেন্টরি ইন টুডেস মার্কেট” এবং “ফিক্স অ্যান্ড ফ্লিপ, লিগ্যালাইজিং বেসমেন্টস, নিউ বিল্ড অ্যান্ড ট্যাক্স স্ট্র্যাটেজিস” সেশনগুলোতে বর্তমান মার্কেটে বাড়ির সংকট, সঠিক প্রপার্টি নির্বাচন, সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ এলাকা, নতুন নির্মাণ, বেসমেন্ট বৈধকরণ, ফিক্স-অ্যান্ড-ফ্লিপ প্রজেক্ট, ট্যাক্স সেভিংস এবং সম্পদ গঠনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্যানেল আলোচনাগুলোতে অংশ নেন রিয়েল এস্টেট, ফাইন্যান্স ও ব্যবসায়িক খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ, মডারেটর এবং ইন্ডাস্ট্রি পেশাজীবীরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শাহেদ ইসলাম, মোহাম্মদ জামান, তারিক খান, আমব্রিন ফারুকী, মাইকেল লাগুডিস, মাইকেল ফং, কেভিন লেদারম্যান, আজাদুল ইসলাম, ওসমান মালিক, সামি কবির, আদিল সাদিক, আমিনা রাশাদ, ফাহিম হোসেন, পিটার কারলিন, মোহাম্মদ রহমান শাহীন, সরদার এম. আসাদুল্লাহ, শান খান, আইস্টন পেরেজ, এমরান ভূঁইয়া, ইসমাইল আহমেদ, আহাদ আলী সিপিএ, দিলারা হোসেন, মাইকেল ন্যাকমিয়াস, তারিক বেইলি এবং মোহাম্মদ মুজুমদার। বক্তারা তাঁদের অভিজ্ঞতা, বিশ্লেষণ ও বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে বাড়ি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী, রিয়েলটর, মর্টগেজ পেশাজীবী এবং কমিউনিটি সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করেন।
এক্সপোটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি কার্যকর নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দর্শনার্থীরা সরাসরি রিয়েল এস্টেট এজেন্ট, মর্টগেজ ব্রোকার, অ্যাটর্নি, সিপিএ, বিনিয়োগকারী, ব্যাংক ও ফাইন্যান্স প্রতিনিধি, বীমা বিশেষজ্ঞ, ডেভেলপার এবং ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পান। বাড়ি কেনা, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ইন্ডাস্ট্রি পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন, যার মাধ্যমে নতুন সম্পর্ক, সম্ভাবনাময় যোগাযোগ এবং অর্থবহ ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরি হয়।
দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল ফ্রি ব্রেকফাস্ট, ফ্রি প্রফেশনাল হেডশট, ফ্রি পার্কিং, কমপ্লিমেন্টারি পিজ্জা লাঞ্চ এবং প্রাণবন্ত লাইভ নেটওয়ার্কিং সেশন, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলে।
টিম ফাহিম অ্যান্ড কারলিন – গো রাস্কাল মর্টগেজ ব্রোকারস-এর উপস্থাপনায় এবং ইউ.এস. বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইউএসবিসিসিআই)-এর আয়োজনে এক্সপোটি অনুষ্ঠিত হয় লিবর — লং আইল্যান্ড বোর্ড অব রিয়েলটরস®-এর সহযোগিতায়। এছাড়া ডেইলি নিউজ মিডিয়া গ্রুপ মিডিয়া পার্টনার এবং ইউএসবিডি ডিজিটাল সলিউশনস টেক পার্টনার হিসেবে আয়োজনটিকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
ইউ.এস. বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি হাল ইউএসবিসিসিআই এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও তারা প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যবসায়িক উন্নয়ন, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে আরও বৃহৎ, সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
৩য় ইউ.এস. বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইউএসবিসিসিআই) রিয়েল এস্টেট এক্সপো ২০২৬-এ ইউএস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইউএসবিসিসিআই)-এর সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রথম সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয় ইউএসবিসিসিআই এবং গ্রেটার নিউ ইয়র্ক চেম্বার অব কমার্স-এর মধ্যে। দ্বিতীয় সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয় ইউএসবিসিসিআই এবং টার্কিশ আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইউএসএ-এর মধ্যে।
ইউএসবিসিসিআই-এর পক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. লিটন আহমেদ, গ্রেটার নিউ ইয়র্ক চেম্বার অব কমার্স-এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও মার্ক জ্যাফে এবং টার্কিশ আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইউএসএ-এর প্রেসিডেন্ট আলী কোচাক এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে অংশ নেন।
এই দুটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা, বিনিয়োগ সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক বিজনেস নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।














