নিউইয়র্ক সিটিতে ৪৫০টি নতুন রেড লাইট ক্যামেরা স্থাপন করবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন (ডিওটি) ঘোষণা করেছে, এই বছর সিটির বিভিন্ন রাস্তার ক্রসিংয়ে ৪৫০টি নতুন রেড লাইট ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে আগামী ছয় সপ্তাহে ২৫০টি ক্যামেরা চালু হবে এবং বছরের শেষ নাগাদ সমগ্র নিউ ইয়র্ক সিটি জুড়ে মোট ৬০০টি ক্যামেরা কার্যকর হবে।
জানা গেছে, বর্তমানে সিটির শুধুমাত্র ১৫০টি রাস্তার ক্রসিংয়ে রেড লাইট ক্যামেরা রয়েছে। এর কারণ হলো পূর্বে নিউ ইয়র্ক ষ্টেট আইনে সিটিতে চালু করা ক্যামেরার সংখ্যা সীমিত করে রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে গভর্নর ক্যাথি হকুল একটি আইন অনুমোদন করেন। যার ফলে নিউ ইয়র্ক সিটিতে আরও ৪৫০টি ক্যামেরা স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
ডিওটি কমিশনার মাইক ফ্লিন বলেন, লাল বাতি অমান্য করা সিটির সড়কে গাড়ীর চালকদের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এবং তা নিউইয়র্কবাসীর জন্য বিপজ্জনক। তাই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং সিটির রেড লাইট ক্যামেরা প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ করছি।
গত বছরের পুরো সময় আইনে থাকলেও, সদ্য সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস এর অধীনে ডিওটি ২০২৫ সালে কোনো নতুন ক্যামেরা চালু করেনি। এ বিষয়ে ডিওটি মুখপাত্র জানান, নতুন স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ চুক্তি চূড়ান্তকরণ, পুরনো ক্যামেরার আপডেট এবং নতুন ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। তবে নতুন ক্যামেরার সঠিক স্থান প্রকাশ করা হয়নি যাতে প্রোগ্রামের কার্যকারিতা বজায় থাকে।
ডিওটি আরো জানায়, গত ৩০ বছর ধরে নিউ ইয়র্ক সিটিতে রেড লাইট ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে বিপজ্জনক ড্রাইভিং কমানোর জন্য। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন (ডিওটি) তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি লাল বাতি অমান্য করা ৭৩%, টি-বোন ধরনের সংঘর্ষ ৬৫%, এবং রিয়ার-এন্ড দুর্ঘটনা ৪৯% কমিয়েছে।
রেড লাইট অমান্য করার জন্য ধরা পড়লে গাড়ীর চালকদের ৫০ ডলারের জরিমানা করা হয়। ডিওটি বলছে, ক্যামেরাগুলি চালকদের আচরণ পরিবর্তনেও সহায়ক। ২০২৩ সালে ক্যামেরার আওতায় ধরা পড়া ৯৪% গাড়ির ক্ষেত্রে মাত্র এক বা দুইবার লাল বাতি অমান্য করার ঘটনা ঘটেছে, এবং মাত্র ০.৫% গাড়ি পাঁচবার বা তার বেশি লঙ্ঘন করেছে।
নিউ ইয়র্ক ষ্টেট সিনেটর অ্যান্ড্রু গুনার্ডেস বলেন, আমি রেড লাইট ক্যামেরা প্রোগ্রাম সম্প্রসারণের আইন পাস করার কাজ হাতে নিয়েছিলাম কারণ এটি কার্যকর। বেশিরভাগ গাড়ীর চালক লাল বাতি অমান্য করেন না, তবে যারা করেন, তাদের দায়ী করা হলে সবাই নিরাপদ থাকে। বহু বছর ধরে সংগৃহীত তথ্য স্পষ্টভাবে দেখায় যে এই ক্যামেরাগুলো দুর্ঘটনা কমায় এবং জীবন রক্ষা করে।