নিউইয়র্ক     বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ  | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সবার মধ্যে থেকেও কি আপনি খুব একা

পরিচয় ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
সবার মধ্যে থেকেও কি আপনি খুব একা

একা একা থাকা আর একাকিত্বের অনুভূতি—এ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়৷ ভিড়ের মধ্যে থেকেও খুব একা লাগতে পারে। এর রয়েছে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা।

লিও তলস্তয় বলেছিলেন, ‘প্রতিটি সুখী পরিবার একইভাবে সুখী, কিন্তু প্রতিটি অসুখী পরিবারের অসুখী হওয়ার গল্প আলাদা।’ একে নিছক লেখকের খেয়ালি শব্দচয়ন বলে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেও নতুন একটি গবেষণায় কিন্তু এমন তথ্য উঠে এসেছে, যা তলস্তয়ের উক্তিটিকে সত্য হিসেবে প্রমাণ করে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার এক সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে যে নিঃসঙ্গতায় ভোগা মানুষের আর যাঁরা নিঃসঙ্গতায় ভোগেন না, তাঁদের মস্তিষ্ক একই বিষয়কে ভিন্নভাব দেখে ও সে অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেয়।

ভিড়ের মধ্যে থেকেও খুব একা লাগতে পারে : এ ক্ষেত্রে, একজন মানুষের যত বন্ধুই থাকুক না কেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব ও মানসিকতার পার্থক্যের জন্য তিনি একাকিত্বে ভুগতে পারেন। তাই বন্ধু বা একই বাড়িতে থাকা পরিবারের সদস্যসংখ্যা কোনোভাবেই একাকিত্ব নিরূপণের মাপকাঠি হতে পারে না।

সুপরিচিত সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স জার্নাল-এ প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণা জানায়, যেসব ব্যক্তি একাকিত্ব অনুভব করেন না, তাঁদের মস্তিষ্ক চিন্তা ভাবনার ক্ষেত্রে ধরনের প্যাটার্ন প্রদর্শন করে, অপর দিকে যাঁরা নিজেকে একা অনুভব করেন, তাঁদের প্রত্যেকের পৃথিবীকে দেখার ও বোঝার ধরন একান্তই আলাদা এবং নিজস্ব। আর তা খুব সুখকর বা সহজ নয়।

নিঃসঙ্গতায় ভোগা ব্যক্তিরা সহজেই ভুল বোঝেন সকলকে: মনোবিজ্ঞানীরা নিঃসঙ্গতায় ভোগা ব্যক্তিদের চিন্তাভাবনাকে খেয়ালি বা ইডিওসেন্ট্রিক বলে অভিহিত করেন। মানসিক সংযোগ ও ভুল–বোঝাবুঝির ওপর করা বিভিন্ন পরীক্ষায় এ ফলাফল উঠে আসে। এ সম্পর্কে গবেষণাগুলো বলে, একাকিত্বে ভোগা ব্যক্তিদের মস্তিষ্ক, একাকিত্বে ভোগেন না এমন মানুষদের মগজের তুলনায় অত্যন্ত ভিন্ন আর বৈচিত্র্যময় প্রক্রিয়ার প্যাটার্ন প্রদর্শন করে। এমনকি একাকিত্বে ভোগা ব্যক্তিদের নিজেদের মধ্যেও চিন্তাভাবনা খুব সুস্থিত নয়।

এই অনুসন্ধানটিকে মনোবিজ্ঞানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধারণা করা হয়। কারণ, এ থেকে জানা যায় যে একটি পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিবেশ তৈরি করার জন্য পৃথিবীকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন। এ-ও প্রমাণ হয় যে সামাজিক সংযোগ স্থাপন করতে সমস্যা হওয়ায় নিঃসঙ্গ ব্যক্তিরা অন্যদের সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পান না।

মনে হয়, ‘কেউ আমাকে বুঝতে পারছে না’: একাকীত্বের সঙ্গে বন্ধুর সংখ্যার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মনে করেন অনেক মনোবিজ্ঞানী। তাঁদের মতে, ঘরভর্তি বন্ধুদের মধ্যে থেকেও একজন ব্যক্তি নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নিঃসঙ্গতার কারণ হিসেবে বন্ধুদের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব, সামাজিক বোঝাপড়ায় সমস্যা ও ‘কেউ আমাকে বুঝতে পারছে না’র—মতো অনুভূতিগুলোকে দায়ী করা যায়।

শুধুমাত্র মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই যে একাকিত্ব ক্ষতিকর, এমনটা নয়৷ শারীরিক নানা অসুস্থতাও দেখা দেয় নিঃসঙ্গতা থেকে। কিন্তু গবেষকরা দেখছেন, কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে একাকী ব্যক্তিরা একেকজন একেকভাবে প্রতিক্রিয়া দেন। তাই এ বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশার মধ্যেই রয়ে গিয়েছে।

তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় কিছু অসঙ্গতি থাকলেও এ অনুভূতি খুবই চেনা আমাদের। এমন হলে মনের অবস্থা আর কষ্টগুলো অবশ্যই কাছের কেউ বা একজন অভিজ্ঞ কাউন্সেলরের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে৷ – সাদিয়া তাসনিম, তথ্যসূত্রঃ সাইটেক ডেইলি

শেয়ার করুন