নিউইয়র্ক     সোমবার, ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ  | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শান্তর ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে ১৫১ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২২ | ০৫:০৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২২ | ০৫:০৫ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
শান্তর ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে ১৫১ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

প্লাওয়ার প্লের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সেই চাপে পিষ্ট না হয়ে দারুণ ব্যাট করে যাচ্ছিলেন ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। অর্ধশতকের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন ৪৫ বলে। আউট হওয়ার আগে এ ওপেনার খেলেছেন ৭ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৫৫ বলে ৭১ রানের ইনিংস। যা তার ক্যারিয়ারসেরা। এর আগে ৪০ রান ছিল তার টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান।

শান্ত’র ৭১ রানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ করেছে ৭ উইকেটে ১৫০ রান। শেষ তিন ওভারে আশানুরূপ ব্যাট করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ তিন ওভার থেকে এসেছে মাত্র ২৪ রান। শেষ ওভারটি হতাশ করেছে বাংলাদেশি সমর্থকদের। চার-ছক্কার বদলে সেই ওভারে বাংলাদেশ উইকেট হারিয়েছে ৩টি। রান এসেছে মাত্র ৭। যে কারণে সংগ্রহ দেড়শ রানের বেশি যেতে পারেনি বাংলাদেশের।

প্রথম ১০ ওভারে রান ছিল ৬৩, শেষ ১০ ওভারে এলো ৮৭। কোনোমতে হলো দেড়শ রান। শুরু থেকে একপ্রান্ত ধরে রেখে দলীয় সংগ্রহ বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন ওপেনার শান্ত। ফিফটির পর ১৬তম ওভারে ১৭ রান নেন শান্ত। তবে পরের ওভারেই তাকে থামিয়ে দিলেন সিকান্দার রাজা। আজ বল হাতে কোনো কারিশমা দেখাতে না পারা রাজা নিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ১৭তম ওভারে ছক্কার চেষ্টায় আউট হয়ে যান শান্ত।

শান্ত ফিরে গেলে সেভাবে রানের চাকা সচল রাখতে পারেননি আফিফ হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন। শান্তকে আউট করার ওভারে আসে মাত্র ৬ রান। ১৮তম ওভারে আফিফ নিতে পেরেছেন মাত্র ৫ রান। ১৯ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্যাচ ফেলে দিয়ে আফিককে জীবন দেন মুজারাবানি। ১৮ রানে জীবন পেয়েছেন তিনি। ওভারের ৫ম বলে কাঙ্ক্ষিত ছক্কা আসে আফিফের ব্যাট থেকে। সিকান্দার রাজার করা সে ওভারে ১২ রান তুলতে পারে আফিফ-মোসাদ্দেক।

শেষ ওভারে গাভারার দ্বিতীয় ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ১০ বলে ৭ রান এসেছে তার কাছ থেকে। পরের বলেই রানআউট হয়ে ফিরেছেন নুরুল হাসান সোহান। মাত্র ১ রান করতে পেরেছেন তিনি। শেষ ২ বলের জন্য ব্যাট হাতে নামেন মিরাজের বদলে একাদশে সুযোগ পাওয়া ইয়াসির আলি রাব্বি। তিনি এক রান নিয়ে আফিফকে স্ট্রাইক দেন। শেষ বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন আফিফ।

এর আগে শুরুতেই পেসার ব্লেসিং মুজারাবানির ধাক্কা। ওপেনার সৌম্য সরকার শূন্য হাতে ফেরেন। মুজারাবানির অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন সৌম্য। দ্বিধা নিয়ে পুশ করার চেষ্টায় সফল হননি বাঁহাতি এই ওপেনার। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে রেজিস চাকাভার কাছে যায় সহজ ক্যাচ।

লিটন দাসও মুজারাবানির শিকার। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে লিটন দাসকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে স্কুপ করার চেষ্টায় শর্ট থার্ড ম্যানে ধরা পড়লেন এই টপঅর্ডার ব্যাটার। তিন বাউন্ডারিতে ১২ বলে ১৪ রানে থামলেন লিটন। লিটনের ফেরার পর শান্তর সঙ্গে ভালোই খেলে যাচ্ছিলেন সাকিব।

উইকেটের আশায় শেষ চেষ্টা হিসেবে ১৩ তম ওভারে শন উইলিয়ামসকে আক্রমণে আনেন ক্রইগ আরভিন। সাকিব আল হাসানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন বাঁহাতি স্পিনারই স্লগ করে উইলিয়ামসকে ছক্কায় ওড়াতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। টাইমিং করতে পারেননি। বেশ উঁচুতে ওঠে যাওয়া ক্যাচ নেন ব্লেসিং মুজারাবানি। ভাঙে ৪৪ বলে গড়া ৫৪ রানের জুটি। ২০ বলে এক চারে সাকিব করেন ২৩।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫০/৭ (শান্ত ৭১, সৌম্য ০, লিটন ১৪, সাকিব ২৩, আফিফ ২৯, মোসাদ্দেক ৭, সোহান ১, ইয়াসির ১*; এনগারাভা ৪-০-২৪-২, মুজারাবানি ২-০-১৩-২, চাটারা ৩-০-১৮-০, রাজা ৪-০-৩৫-১, ইভান্স ৩-০-৩২-০, মাধেভেরে ২-০-১৮-০, উইলিয়ামস ২-০-১০-১)

শেয়ার করুন