বৃহস্পতিবার ২৬ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
পরিচয়
অর্থনীতি কমিউনিটি বাংলাদেশ লাইফস্টাইল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এর ১ম বাংলাদেশী লাইফটাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন নিউইয়র্ক এর শেফ খলিলুর রহমান

পরিচয় রিপোর্ট:  প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের লাইফ টাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেেলন নিউ ইয়র্ক এর  খলিল বিরিয়ানী হাউসের জনপ্রিয় শেফ খলিলুর রহমান। গত ১৯ মার্চ শনিবার নিউইয়র্করে ইউএন প্লাজায় জাতিসংঘের যুক্তরাষ্ট্র মিশনে  প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের পক্ষে তাঁর হাতে সার্টিফিকেট ও সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত আমেরিকান কর্মকর্তা ড. সীমা কাতনায়া। অনুষ্ঠানে ড.কাতনায়া বলেন, ‘এটা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সর্বোচ্চ সম্মানজনক পদক। তাঁর হাতে এটি তুলে দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।’

যুক্তরাষ্ট্রে জনসমাজের অগ্রযাত্রা এবং কর্মপ্রবাহে বৈশিষ্ট্যময় অবদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এমন সম্মাননা প্রদান করে থাকেন। 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল লাইফটাইম এচিভমেন্ট  অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার সদা বিনয়ী শেফ  খলিলুর রহমান কৃতজ্ঞতার সাথে তাঁর সকল অগ্রযাত্রায় কম্যুনিটির সকল স্তরের মাসুষের সমর্থন ও ভালোবাসার কথা বিশেষ করে বাংলা সংবাদ মাধ্যমসমুহের নিরন্তর সমর্থন ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। সাফল্য তাঁর একার নয়, সম্মান যা পেয়েছেন তাও তাঁর একার নয়, এটি বাংলাদেশের সম্মান, সকল বাংলাদেশীর সম্মান বলেই তিনি মনে করেন।

২০০৮ সালে ডাইভার্সিটি ভিসায় (ডিভি) যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর খলিলুর রহমান আগ্রহী হয়ে পড়েন রন্ধনশিল্পে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণে। নিউ ইয়র্ক ইনস্টিটিউট অব কালিনারি এডুকেশনে চার বছরের পাঠ চুকিয়ে একাধিক বাংলাদেশী রেষ্টুরেন্টে কাজ করলেও আগ্রহী ছিলেন নিজের মতো করে খাবার রান্না ও পরিবেশন করায়।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে ব্রঙ্কসের পার্কচেষ্টার এলাকায় খুবই ছোট পরিসরে যাত্রা শুরু খলিল বিরিয়ানী হাউজের। তারপর ধীরে ধীরে একে একে খলিল হালাল চাইনিজ, খলিল পিৎজা এন্ড গ্রীল, খলিল সুইটস, খলিল সুপার মার্কেট এর মাধ্যমে গড়ে তোলেন কম্যুনিটির সর্বমহলে পরিচিত ও সমাদৃত ব্যবসায়িক ব্রান্ড যা বর্তমানে শতাধিক বাংলাদেশীর কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে কম্যুনিটি সেবায় এক অনন্য অবদান রেখে যাচ্ছে।

সেই সাথে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন সুস্বাদু সব দেশীয় খাবারকে আরো বেশী মুখরোচক করার নিত্য প্রয়াসে। কেবল বাংলাদেশী গ্রাহকরাই নন, শেফ খলিলের খাবার এখন ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আমেরিকানদের কাছেও। ২০২১ এর সভেম্বের নির্বাচনের পরপরই প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নামে সুস্বাদু ‘বাইডেন বিরিয়ান’  চালূ করে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলের তার আগে থেকেই আমেরিকার সবচাইতে আলোচিত কংগ্রেসওম্যান আলেকজ্রান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ এর খুবই প্রিয় শেফ খলিলুর রহমান।

মাত্র ৫ বছরে এমন সাফল্য আসবে ভাবনায় ছিলনা শেফ খলিলের, তবে আশাবাদী ছিলেন সবসময়। যুক্তরাষ্ট্রে সম্পুর্ণ নতুন পরিবেশে এসে ভেবে চিন্তে অগ্রসর হওয়াটাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন বেশী। 

প্রবাসে বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পকে এক নতুন মাত্রায় টেনে তুলেছেন পরিশ্রমী ও খাবারের মানের সাথে আপোসহীন শেফ খলিলুর রহমান। তাঁর স্বপ্ন এখন সুদুর প্রসারিত। তাঁর হাতের রুচিসম্মত ও সুস্বাদু সব রান্নার মশলার মিশ্রণ প্রায় সম্পন্ন করে এনেছেন যার মাধ্যমে যে কেউ একটু আগ্রহী হলেই খুলতে পারবেন খলিল বিরিয়ানি মতো রেঁস্তরা। 

পাশাপাশি শুরু করেছেন খলিল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশেও অনেক জনহিতকর কাজে সম্পৃক্ত হওয়া। শুধু তাই নয়, খলিল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেক নবাগতদের রেষ্টুরেন্টের বিভিন্ন কাজে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকুরীর জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা। তাঁর নিজের জীবনকেই উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্পুর্ণ নতুন ও তুলনামুলক বৈরী পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে তিনি যেভাবে সাফল্যের পথে এগুচ্ছেন, নবাগতরাও যেন তা থেকে সাহস পায়, অনুপ্রেরণা প্রায়, সেটিই তাঁর কাম্য। তাঁর মতে সাফল্য অর্জনে সাধনা এবং পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই।

সোস্যাল শেয়ার :

Related posts

মন্তব্য করুন

Share
Share