নিউইয়র্ক     বৃহস্পতিবার, ১লা জুন, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ  | ১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ভারত ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন জ্যাকুলিন

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২২ | ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২২ | ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
ভারত ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন জ্যাকুলিন

শ্রীলঙ্কার হৃদয় কাঁপিয়ে বলিউডে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্ডেজ। একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়ে এবং নিজের অভিনয়, রূপ ও গ্ল্যামার দিয়ে অনেক আগেই দর্শকদের মনে রাজ্য জয় করে নিয়েছেন তিনি। জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর নাম ভারতে প্রতারণা দায়ে জেলবন্দি সুকেশ চন্দ্রশেখরের সাথে জড়িয়ে যাবে কল্পনাও করতে পারেননি। ২০০ কোটি টাকা তহবিল তছরুপ-কাণ্ডের তদন্ত চলাকালীন দেশ ছেড়ে পালাতে চেয়েছিলেন তিনি। গতকাল শনিবার (২২ অক্টোবর) দিল্লির আদালতকে এই তথ্য জানিয়ে অভিনেত্রীর সাধারণ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি।

আদালতে জামিন আবেদনের শুনানি চলাকালীন ইডি অভিযোগ করে, জ্যাকুলিন তার মোবাইল ফোন থেকে সমস্ত তথ্য মুছে দিয়ে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করেছেন। তদন্তে সহযোগিতা করছেন না তিনি, এমনও অভিযোগ ওঠে। তার পরই ইডির তরফে বলা হয়, অভিনেত্রী দেশ ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন এর মাঝেই। কিন্তু ‘লুক আউট’ নোটিশ জারি থাকায় সম্ভব হয়নি। আদালতে এই সংক্রান্ত যাবতীয় নথি পেশ করেছে ইডি। এরপর আদালতের সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী সুরক্ষার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে জ্যাকুলিনের। জানা গেছে, আগামী ১০ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী জামিনে ছাড়া পেয়েছিলেন জ্যাকুলিন। আগস্ট মাসে সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে তছরুপ মামলায় নাম জড়ানোর পর ইডি তলব করেছিল তাকে। শুধু তা-ই নয়, তার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও অনেককেই থানায় হাজিরা দিতে ডেকেছিল দিল্লির আর্থিক অপরাধ দমন শাখা। সেখানে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্ত এগিয়ে নিয়ে চলেছে ইডি। তার মধ্যেই ৩৭ বছর বয়সী জ্যাকুলিনের অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন মঞ্জুর হয়।

ইডি যখন জ্যাকুলিনের বিরুদ্ধে মামলায় চার্জশিট দাখিল করে, তখন অভিযোগ জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। ইডির তদন্ত পদ্ধতি ‘বেঠিক’ এবং ‘অন্যের মদতপুষ্ট’ বলে পাল্টা অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য দিল্লির একটি আদালতে আপিল করেছিলেন তিনি। সেই জামিন মঞ্জুর হয় শেষমেশ।

যদিও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, জ্যাকুলিনের ‘স্বপ্নের পুরুষ’ ছিলেন সুকেশ! ২০০ কোটি টাকার তছরুপ মামলার তদন্তে নেমে এমন কথাই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, ‘কনম্যান’ সুকেশকে বিয়েও করতে চেয়েছিলেন বি-টাউনের এই মোহময়ী নায়িকা।

দিল্লি পুলিশের আর্থিক অপরাধ দমন শাখার স্পেশাল কমিশনার রবীন্দ্র যাদব সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন যে, প্রচুর ধনদৌলত থাকায় বলিউডের অভিনেত্রীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন সুকেশ। এই ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন জ্যাকুলিনও। সুকেশের কথায় নায়িকা এতটাই প্রভাবিত হন যে, তাকে বিশ্বাসও করতে শুরু করেন।

সেই সূত্রেই সুকেশকে ‘কাছের মানুষ’ ভাবেন জ্যাকুলিন। তাকে বিয়ে করার কথাও ভেবেছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। যদিও বর্তমানে বিতর্ক সরিয়ে ফের কাজে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জ্যাকুলিন। আদিত্য দত্ত পরিচালিত ‘এক্সট্রিম স্পোর্টস অ্যাকশন’ ছবি ‘ক্র্যাক’-এ অর্জুন রামপালের বিপরীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে।

শেয়ার করুন