নিউইয়র্ক     বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

‘পুলওয়ামা হামলার তথ্য গোপন করেছেন মোদি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৩ | ১১:২৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৩ | ১১:২৩ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
‘পুলওয়ামা হামলার তথ্য গোপন করেছেন মোদি’

পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘মূল’ তথ্য জনগণের কাছে গোপন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন অঞ্চলটির সাবেক গভর্নর সত্য পাল মালিক। চার বছর আগে ২০১৯ সালে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় নিহত হয়েছিলেন আধাসামরিক বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য।

সত্য পাল শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) এক সাক্ষাত্কারে দ্য ওয়্যারকেও বলেন, ‘বুঝতে পারছিলাম মোদি তার সরকার এবং বিজেপির সুবিধার জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করতে আক্রমণটিকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।’ দুর্নীতিগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদির চোখের সামনেই ঘটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিন্তে বলতে পারি দুর্নীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনও সমস্যা নেই।’

পুলওয়ামা হামলা এবং সেই বছরের আগস্টে ৩৭০ ধারা বাতিলের সময় মালিক ছিলেন অঞ্চলটির গভর্নর। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাশ্মীর সম্পর্কে ধারণা কম। মালিকের দাবি, ঘটনাটি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ত্রুটির বিষয়ে মুখ না খুলতেও প্রধানমন্ত্রী মোদি তাকে নিষেধ করেছিলেন।

মালিক জানান, পুলওয়ামায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা সিআরপিএফ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘অযোগ্যতা’ এবং ‘অযত্ন’-এর ফলস্বরূপ। কীভাবে সিআরপিএফ তার কর্মীদের পরিবহনের জন্য বিমান চেয়েছিল তার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন মালিক। জানান, সিআরপিএফ-এর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে ফোনে এ বিষয়ে চুপ থাকতে বলেছিলেন। শুধু তিনিই না, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও আমাকে চুপ থাকতে এবং এ বিষয়ে কথা না বলতে বলেছিলেন।’ মালিক বলেন, ‘আমি সব বুঝতে পারছিলাম। পাকিস্তানের ওপর দোষ চাপিয়ে সরকার ও বিজেপির জন্য নির্বাচনি সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্য ছিল মোদির।’

পুলওয়ামার ঘটনায় গুরুতর গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল বলেও দাবি করেন মালিক। তিনি বলেন, ‘৩০০ কিলোগ্রাম আরডিএক্স বিস্ফোরক বহনকারী গাড়িটি সীমান্তের ওপার থেকে এসেছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু ১০-১৫ দিন গাড়িটি ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের রাস্তা এবং গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কেউ এটিকে শনাক্ত করতে পারেনি। কেন মেহবুবা মুফতিকে নতুন সরকার গঠন করতে দেননি তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মালিক। ৮৭ সদস্যের বিধানসভায় ৫৬ জনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিলেন মুফতি।

মেহবুবা মুফতিকে মিথ্যাবাদী অ্যাখ্যা দিয়ে মালিক বলেন, ‘ন্যাশনাল কনফারেন্সের মতো যে দলগুলোকে নিয়ে মেহবুবা জয় দাবি করেছিলেন, তারাই আলাদাভাবে আমাকে বিধানসভা ভেঙে দিতে বলেছিলেন। মালিক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীর সম্পর্কে অজ্ঞ। ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। এটিকে ফিরিয়ে আনা উচিত অবিলম্বে।’ সূত্র: দ্য ডন

শেয়ার করুন