নিউইয়র্ক     রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পুতিনের নির্ধারিত দামে তেল কিনতে একমত পশ্চিমা দেশগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:৪০ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
পুতিনের নির্ধারিত দামে তেল কিনতে একমত পশ্চিমা দেশগুলো

রাশিয়ার তেলের দাম নির্ধারণে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ইউরোপীয় নেতারা। রুশ তেল প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলারেই কিনবে ইউরোপ। এ বিষয়ে আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে সমুদ্রপথে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তার আগেই রুশ তেলের দাম নির্ধারণের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালো পশ্চিমা দেশগুলো।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পর থেকে রাশিয়ার জ্বালানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পশ্চিমা দেশগুলো। তবে পশ্চিমারা নিষেধাজ্ঞা দিলেও চীন, ভারতসহ অনেক দেশই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে।

এ কারণে পশ্চিমা শক্তিগুলো গত সেপ্টেম্বর মাসে সিদ্ধান্ত নেয়, ডিসেম্বর মাসের মধ্যে তেলের দাম কমানোর বিষয়ে বিস্তারিত একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে তারা। মূলত তেল বিক্রি করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যেন যুদ্ধের ব্যয় নির্বাহ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পশ্চিমারা।

কম দামে রাশিয়ার সামুদ্রিক অপরিশোধিত তেল কেনার মূল প্রস্তাব ছিল বিশ্বের শীর্ষ সাত অর্থনীতির জোট জি-৭-এর। ধনী দেশগুলোর সংগঠনটির প্রস্তাব ছিল, বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম সামগ্রিকভাবে ৫ শতাংশ কমিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার থেকে ৭০ ডলার দরে তেল কিনতে হবে।

তবে ইউক্রেনের চাওয়া ছিল, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ ডলারে বেঁধে দিক। ইউক্রেনের পাশাপাশি পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া ও লিথুয়ানিয়ার দাবি ছিল, রুশ তেলের দর ৬০ ডলারের অনেক কম নির্ধারণ করা হোক। তবে গ্রিস, সাইপ্রাস ও মাল্টা জানায়, রুশ তেলের দাম একটু বেশি নির্ধারণ করা হোক।

কিন্তু সম্প্রতি ইউরোপীয় কূটনীতিকদের এক বৈঠক সূত্রে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, রুশ তেলের দাম ৬৫ থেকে ৭০ ব্যারেল নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে এই দর নিয়েও বিতর্ক চলছিল। কারণ, জ্বালানির এই দর বর্তমানে রুশ অপরিশোধিত তেলের দরের কাছাকাছি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৭০ ডলারের কথা বলে আসলেও চলতি সপ্তাহে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম অন্তত ৬০ ডলার হওয়া উচিত। গত বুধবার মস্কোয় এক বিনিয়োগ সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় পুতিন বলেন, তেলের বর্তমান মূল্য ‘ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্য’ এবং আগামী বাজেট বাস্তবায়নের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন তার জন্য মানানসই।

শেষ পর্যন্ত কার্যত রাশিয়ার প্রস্তাবই মেনে নিল ইউরোপ। পুতিনের চাওয়া ৬০ ডলারেই তেল কিনবে তারা। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) ইইউ কূটনীতিকরা জানান, তাদের এই সিদ্ধান্তে তথা ৬০ ডলারে তেল কেনার চুক্তিতে সম্মতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরদিন শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) চুক্তির প্রতি সমর্থন জানায় পোল্যান্ডও। আল জাজিরা জানায়, রবিবার (৪ ডিসেম্বর) চুক্তিটি বিস্তারিত ইইউ’র আইনি জার্নালে প্রকাশ হওয়ার কথা।

আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকে সমুদ্রপথে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল সরবরাহে ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তার আগেই একটা ঐকমত্যে পৌঁছানো ইউরোপের জন্য বেশ জরুরি ছিল। কারণ যেসব জাহাজ রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল পরিবহন করবে, তাদের ক্ষেত্রে বিমা প্রযোজ্য হবে না। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে চীন, ভারতসহ আর যেসব দেশ রাশিয়া থেকে তেল কিনছে, তারা বিপাকে পড়বে। কারণ, জাহাজের অধিকাংশ বিমাকারী ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক।

শেয়ার করুন