নিউইয়র্ক     রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ০১:১৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ০১:১৮ অপরাহ্ণ

ফলো করুন-
দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশে ও দেশের বাইরে বসবাসকারী বাংলাদেশের সকল নাগরিককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক অবরোধ-পাল্টা অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সময়োচিত পদক্ষেপে করোনায় মানুষের প্রাণহানি কমানোর মতো অর্থনীতিকেও সচল রাখতে সরকার সক্ষম হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, টিকা পাওয়ার উপযোগী সবাইকে বিনামূল্যে প্রায় ৩৪ কোটি টিকা দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ প্রথম ডোজ, ১২ কোটি ৬৫ লাখ দ্বিতীয় ডোজ এবং ৬ কোটি ৪৫ লাখ বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে।

আরোও পড়ুন।বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র: হোয়াইট হাউজ

সরকার প্রধান বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ এবং পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক অবরোধ এবং পাল্টা অবরোধে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও আমদানি-নির্ভর দেশগুলো সবচে বেশি বিপাকে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, ভোজ্য তেল, গম চিনি, ভুট্টা, ডাল, রাসায়নিক সারসহ প্রায় সকল ভোগ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পরিবহণ খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে অনেকেই নানা মনগড়া মন্তব্য করছেন। তিন মাসের আমদানি খরচ মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকলেই চলে। বর্তমানে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বৈদেশিক মুদ্রা আছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্ট করা হচ্ছে। অযথা গুজবে কান দিবেন না। ব্যাংকে টাকার কোন ঘাটতি নেই। উপার্জিত টাকা ঘরে রেখে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না বলেও সতর্ক করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর তলদেশে টানেল, ঢাকায় মেট্রোরেল এবং বিমানবন্দর-কুতুবখালী এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ খুব শিগগির যানবাহনের জন্য খুলে দেয়া হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন। আশ্রায়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩৫ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে ঘর নির্মাণ করে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

দেশ যখন নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেসময় স্বাধীনতা এবং উন্নয়নবিরোধী গোষ্ঠী অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এদের একটা অংশ শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হয়ে তারা মানুষ হত্যা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেত্রী এতিমখানার অর্থ আত্মসাৎ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত। আরেক শীর্ষ পলাতক নেতা অর্থপাচার, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। সাধারণ জনগণ কেন তাদের ভোট দিতে যাবে- প্রশ্ন রাখেন?

দেশের মানুষের ওপর আস্থা হারিয়ে বিএনপি-জামায়াত এখন বিদেশিদের কাছে দেশের বদনাম করার জন্য কিছু ভাড়াটিয়া লোক নিয়োগ করেছে। পাচার করা অর্থ ব্যবহার করছে আর দেশের বদনাম করে বেড়াচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের কারণে দেশে ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রত্যাখান করেছিলো। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও জনগণ বিএনপি-জামায়াত জোটকে ভোট দেয়নি। জনগণের দ্বারা প্রত্যাখাত হয়ে তারা এখন অগণতান্ত্রিক পথে ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

সরকার প্রধান বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত রয়েছে। সেকারণেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকলে কোনোদিনই বাংলাদেশের এতো উন্নতি করতে পারতো না। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদেরই বেছে নিতে হবে আপনারা কী চান- উন্নত মর্যাদাশীল জীবনের ধারাবাহিকতা নাকি বিএনপি-জামাত জোটের দুর্বৃত্তায়নের দুর্বিসহ জীবন?’

বৈশ্বিক কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, তা এখন অনেকটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, মূল্যস্ফীতিও হ্রাস পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ কোনো জিনিসের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে তা সমন্বয় করা হবে।

সঙ্কট আসবে। সঙ্কটে ভয় পেলে চলবে না । জনগণের সহায়তায় করোনা ভাইরাস মহামারি সফলভাবে মোকাবিলা করা গেছে, বর্তমানে বৈশ্বিক মন্দাও মোকাবিলা করা হবে। এজন্য দেশবাসীর সহযোগিতা আশা করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের পর ২৯ বছর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে দেশের সম্পদ লুটে-পুটে খেয়ে ‘খোকলা’ বানিয়েছে। এখনও এদেশে ‘শকুনি’ এবং পঁচাত্তরের হায়নাদের বংশধরেরা সক্রিয় আছে। সুযোগ পেলেই তারা দন্ত-নখর বসিয়ে দেশটাকে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলবে। সাধারণ মানুষ ভালো আছে দেখলে এদের গায়ে জ্বালা ধরে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠে। বাংলাদেশের মানুষ এদের চিনে ফেলায় ষড়যন্ত্র করে বিভ্রান্ত করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন।

সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। সুখী-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে অঙ্গিকারও করেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র : বাংলা ভিশন টিভি

শেয়ার করুন