নিউইয়র্ক     বৃহস্পতিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ  | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দিল্লির দারিদ্র্য ঢাকতে বস্তি উচ্ছেদ!

পরিচয় ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
দিল্লির দারিদ্র্য ঢাকতে বস্তি উচ্ছেদ!

ভারতের রাজধানী দিল্লির জনতা ক্যাম্প এলাকায় রয়েছে একটি বসতি। সেখান থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরেই বসছে বিশ্বের শিল্পোন্নত ও বিকাশমান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-২০’র শীর্ষ সম্মেলন। বসতির বাসিন্দারা ভেবেছিল, সম্মেলন হলে তারা উপকৃতই হবেন। সেই আশায় গুড়েবালি। এখন বস্তি থেকেই উচ্ছেদ হয়ে গৃহহীন তারা। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উচ্ছেদ অভিযান তাদের নিয়মিত কাজের অংশ। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মীরা বলেছেন, আগামী ৯-১০ সেপ্টেম্বরের শীর্ষ সম্মেলনের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের অংশ হিসেবে দারিদ্র্য আড়াল করতে বস্তি উচ্ছেদ করা হয়েছে।

জি-২০ সম্মেলনের প্রধান ভেন্যু প্রগতি ময়দানের কাছেই জনতা ক্যাম্পের অবস্থান। দিল্লির স্বাভাবিক দৃশ্যের প্রতীকও বলা যায় এই ক্যাম্পকে। দিল্লির ২ কোটি বাসিন্দার বেশিরভাগই অপরিকল্পিত বিভিন্ন জেলায় বসবাস করেন। ২০২১ সালে দেশটির আবাসন ও নগর কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী হরদ্বীপ সিং পুরী সংসদে বলেছিলেন, দিল্লির অননুমোদিত কলোনিগুলোতে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ মানুষ বসবাস করেন।

রয়টার্স বলছে, দিল্লিতে এখন এমন অসংখ্য গৃহহীনকে দেখা যাচ্ছে; যাদের বাড়িঘর গত কয়েক মাসে ভেঙে ফেলা হয়েছে। তেমনই এক পরিবার ধর্মেন্দ্র কুমার, খুশবু দেবী ও তাদের তিন সন্তানের। ধর্মেন্দ্রের পরিবারে তার স্ত্রী খুশবু দেবীর বাবাও রয়েছেন। ১৩ বছর ধরে তারা ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে আসছিলেন। সম্মেলনের আগে জমিটি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ধর্মেন্দ্র রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের যদি এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তা হলে আমার সন্তানদের লেখাপড়ারও ক্ষতি হবে। স্কুলটি কাছাকাছি হওয়ায় তারা এখান থেকে পড়তে পারে।’ দেবী বলেন, ‘যদি তাদের জায়গা পরিষ্কারই করতে হয়, তা হলে তার মানে এই নয় যে গরিবদের সরিয়ে দিতে হবে। দরিদ্রদের দেখতে যদি খুব খারাপ লাগে, তা হলে তারা একটি পর্দা বা একটি চাদর লাগাতে পারতেন, যাতে দরিদ্রদের দেখা না যায়।’

জনতা ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছেন সেখানকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শামীম। তিনি বলেন, তিনি ভেবেছিলেন জি-২০ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ‘বড় বড় মানুষেরা’ হয়তো তাদের মতো ‘গরিবদের কিছু দেবেন।’ মোহাম্মদ শামীম বলেন, এখানে ঠিক তার উল্টোটা ঘটেছে। বড় মানুষরা আসবেন, আমাদের কবরের ওপর বসবেন এবং খাবেন।

দিল্লির এই বস্তি উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছিল চার মাস আগে। বস্তিবাসীর বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান পরিচালনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, সরকারি জমিতে বেআইনিভাবে বাড়িঘর তৈরি করা হয়েছে এবং সেখান থেকে সেসব সরিয়ে ফেলাটা নিয়মিত কাজের অংশ।

গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা নয়া দিল্লিভিত্তিক সংগঠন সেন্টার ফর হলিস্টিক ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও নির্বাহী পরিচালক সুনীল কুমার আলেদিয়া বলেন, সরকার সৌন্দর্যবর্ধনের নামে বাড়িঘর উচ্ছেদ করছে এবং ভাসমান লোকজনকে সরিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এসব লোকের কী হবে সে বিষয়ে কোনো উদ্বেগ ছাড়াই এটি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি যদি করতেই হয়, তা হলে সেখানকার বাসিন্দাদের তা সময় মতো জানিয়ে দেওয়া এবং পুনর্বাসন করা উচিত ছিল। আবাসন ও নগর কল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কুশল কিশোর দাবি করেছেন, জি-২০ সম্মেলন উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কোনো বাড়িঘর উচ্ছেদ করা হয়নি।

গত মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে বলা হয়, দখলদাররা দখলে নেওয়া সরকারি সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে পারেন না। তবে সরকারি সম্পত্তি খালি করে দেওয়ার জন্য তারা সময় চাইতে পারেন। একই সঙ্গে তারা পুনর্বাসনের জন্য আবেদনও করতে পারেন।

শেয়ার করুন