নিউইয়র্ক     বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান টুডে-র রিপোর্ট

ইলিশ কূটনীতি যেভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে শক্তিশালী করছে

পরিচয় ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
ইলিশ কূটনীতি যেভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে শক্তিশালী করছে

ইলিশ মাছ। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। এ বছর এরইমধ্যে বাংলাদেশ থেকে ইলিশের বড় চালান কোলকাতায় পৌঁছেছে। তবে মানুষের খাবারের প্লেট থেকে এই ইলিশ এখন উঠে এসেছে কূটনীতির টেবিলেও। জন্ম দিয়েছে ইলিশ কূটনীতির। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বারবার উঠে আসছে এই ইলিশ কূটনীতির কথা। পাকিস্তান টুডে-তে লেখা এক কলামে সেই বিষয়টি তুলে ধরেছেন ভারতের কর্নাটকের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জন রোজারিও।

এতে তিনি লিখেছেন, গত সপ্তাহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় এই ইলিশ কূটনীতির বিষয়টি আবারও উঠে এসেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের সবথেকে বেশি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ। ভারতে ইলিশ রপ্তানি করে ভাল অর্থও আয় করে বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সেখানে ইলিশ পাঠাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবেদনও জানিয়েছিলেন।

দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের সেতুবন্ধনে ‘ইলিশ কূটনীতি’ ব্যবহার করছেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ১৯৯৬ সালে প্রথমে তিনি তখনকার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জন্য ব্যবহার করেন ইলিশ উপহার।

এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১০ সালে যখন রেলমন্ত্রী, তখন তার জন্য ইলিশ মাছ নিয়ে যান শেখ হাসিনা। ২০১৬ সালে যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখনও তাকে ২০ কেজি ইলিশ পাঠিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জীর জন্য ২০ কেজি ইলিশ ও অন্যান্য উপহার নিয়ে যান।

জন রোজারিও লিখেছেন, বাঙালি মাত্রই ইলিশ ভালোবাসে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের সময় বাংলার দুই অংশ দুই দেশে গিয়ে পড়ে। এরপর থেকে আলাদা দুই পাশের দুই বাংলা। কিন্তু ইলিশের জন্য প্রেম সব বাঙালির মধ্যেই সেই আগের মতোই রয়েছে। যদিও ইলিশ মূলত ধরা পড়ে বর্তমান বাংলাদেশ অংশেই। বিশ্বের ৮৬ ভাগ ইলিশ শুধু বাংলাদেশেই পাওয়া যায়। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৫ লাখ ৫০ হাজার টন ইলিশ ধরা হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গে বাস করা অনেকেরই ছোটবেলা কেটেছে বাংলাদেশে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ অনেক কম। বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আসার খবরে এ রাজ্যের মানুষ তাই আনন্দিত হয়ে উঠে। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, ওড়িষ্যা, ত্রিপুরা ও আসামেও বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ সরকার।

২০১৯ সালে বহুদিন পর দুর্গা পূজা উপলক্ষে ইলিশ রপ্তানি অনুমোদন করা হয়েছিল। কিন্তু আসল চাহিদা ছিল ব্যাপক। বাংলাদেশেও ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতে চাহিদা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে উৎপাদন বৃদ্ধি এই দুটো মিলে এখন ইলিশ কূটনীতির টেবিলে আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। গত সোমবার থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ১৬ টন ইলিশ নিয়ে কোলকাতায় পৌঁছেছে প্রথম চালান। দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে মোট ২ হাজার ৪৫০ টন ইলিশ রপ্তানি অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইলিশ আসছে এমন খবরে উৎসবের আগেই উৎসব শুরু হয়েছে কোলকাতায়। মিডিয়াগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে এ খবর প্রচারিত হচ্ছে। কোলকাতায় ইলিশ নামার পর চোখের পলকে সাড়ে আট মেট্রিক টন ইলিশ বিক্রি হয়ে যায়। এ থেকেই ধারণা করা যায়, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ইলিশ কত পছন্দ করেন। তারা কি বুঝতে পারছেন যে, বাংলাদেশের বাঙালিরাও এভাবে তিস্তার পানির জন্য অপেক্ষা করে আছে। ইলিশ কূটনীতির মাধ্যমে সেই একটা সমঝোতায়ই পৌছাতে চাইছে বাংলাদেশ।

ভারতে ইলিশ রপ্তানি করে প্রচুর অর্থও পাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতি কেজি ইলিশ ১০ ডলার দামে বিক্রি হচ্ছে। এই দুর্দিনে এই ফরেন কারেন্সি বেশ কাজে দেবে। জন রোজারিওর দাবি, এই ইলিশ কূটনীতিতে সামনে আরও উৎসাহ বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যে পিংপং কূটনীতি কিংবা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে ক্রিকেট কূটনীতি দেখা যায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেও সেভাবে চলবে ইলিশ কূটনীতি। ভবিষ্যতে এটি পিংপং ও ক্রিকেট কূটনীতির মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

পরিচয়/টিএ

শেয়ার করুন