নিউইয়র্ক     রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ  | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আইপিএল বয়কটের মানেই হয় না : সাকিব

‘গ্রীনকার্ড আগেই পেয়েছি, এখন ফিরে যাওয়ার সময় : শাকিব খান

পরিচয় ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২২ | ১২:২৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২২ | ১০:১১ পূর্বাহ্ণ

ফলো করুন-
‘গ্রীনকার্ড আগেই পেয়েছি, এখন ফিরে যাওয়ার সময় : শাকিব খান

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্পর্কে বিশ্বের অন্যতম অল রাউন্ডার খ্যাত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান বলেছেন, আবেগ দিয়ে সবসময় সব কিছু বিবেচনা করা যায় না। আইপিএল এমন একটা জায়গা যেখানে পুরো বিশ্ব ক্রিকেটই চায় ঐ জায়গায় খেলতে। এখানে খেলাটা সব খেলোয়াড়ের জন্যই ভালো একটা সুযোগ। সেখানকার অভিজ্ঞতাটা অনেক বড় কিছু।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে এক ‘মিট এন্ড গ্রীট উইথ দ্যা ওয়ার্ল্ড সুপারস্টার সাবিক আল হাসান এন্ড ঢালিউড কিং শাকিব খান’ অনুষ্ঠানে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান অতিথি হিসেবে একথা বলেন। একই অনুষ্ঠানের অপর অতিথি ছিলেন ‘ঢালিউড কিং’ খ্যাত বাংলাদেশের সুপার ষ্টার তারকা শাকিব খান।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) ফেসমেডোর ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শো টাইম মিউজিক। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। নায়ক শাকিব খান আর ক্রিকেটার সাকিব আর হাসান তাদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন। এসময় সংশ্লিষ্টরা সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, অতীতে বাংলাদেশের এই দুই কৃতি সন্তানকে একাধিক টিভি অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গেলেও এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে দর্শক-ভক্তদের সামনে এক সাথে উপস্থাপন করেছে শো টাইম মিউজিক। অনুষ্ঠানে দুজনই শোটাইম মিউজিক এর আলমগীর খান আলমের সঞ্চালনায় উপস্থিত অনুরাগীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

অনুষ্ঠানে ক্রিকেটার সাকিব আর হাসান বলেন, ২০১৯ বিশ্বকাপের আগেও আমি ম্যাচ খেলিনি। পুরো দেড় মাস আমি ওখানে বসেছিলাম। ওখানে থাকার কারণে জনি বেয়ারিস্টো, রশিদ খান, ডেভিড ওয়ার্নার, কেন উইলিয়ামসন ওদের সঙ্গে থেকে দেখেছি যে বিশ্বসেরা কীভাবে হওয়া যায়। বিশ্ব ক্রিকেটকে যে ওরা লিড করে সেটা কী কারণে করে, সেটা আমি ওখান থেকেই জেনেছি। ওখানে যদি না যেতাম কখনোই জানতে পারতাম না। চেষ্টা করেছি কীভাবে ওদের কাছাকাছি যাওয়া যায়। আমার মনে হয় যেটা আমাকে অনেকটা কাজে দিয়েছে। ২০১৯ বিশ্বকাপে তার ফল আমি পেয়েছি। আইপিএল বলেন সিপিএল বলেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে যে অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় তা দেশের ক্রিকেটেরই লাভ হবে। শুধু আইপিএল না অন্য যে কোনো টুর্নামেন্ট বয়কট করার কোনো মানেই হয় না।

ক্রিকেটার সাকিব আর হাসান মনে করেন জীবনে শেখার কোনো শেষ নেই, ‘শেখার তো শেষ নেই আপনি যত নতুন জায়গায় যাবেন ততই নতুন কিছু শিখতে পারবেন। আমি নিশ্চিত আপনি যখন নিউ ইয়র্কের বাইরে ডালাসে ক্যালিফোর্নিয়া বা অন্য কোথাও যাবেন কিছু না কিছু শেখার আসবেই। এই সুযোগগুলো হাতছাড়া করা ঠিক না। পৃথিবীর সব জায়গাতেই কিছু শেখার আছে। তো আপনি কেন সুযোগ হাতছাড়া করবেন।’

ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর হানিপ এর এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্ব ক্রিকেটের সুপারস্টার সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আমি বাস্তববাদী মানুষ। বর্তমান নিয়েই থাকি। তাই মারা যাওয়ার পর কে কী ভাবলেন সেটি তো আমি জানতে পারবো না। তবে আমি জানি যারা একান্তই কাছের মানুষ তারা স্মরণ করবেন, দোয়া করবেন। আর যদি সমগ্র জাতির কল্যাণে কিছু করছি বলে বিবেকসম্পন্নরা অনুধাবনে সক্ষম হন, তাহলে তারাও স্মরণ রাখবেন বহুদিন।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে  প্রসারে কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে ক্রিকেটার সাকিব বলেন, ‘অবশ্যই করার ইচ্ছা আছে। নতুন প্রজন্মে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে ক্রিকেটের প্রতি। সেই আবেগ কাজে লাগাতে সচেষ্ট রয়েছেন সকলেই।’

অনুষ্ঠানে হলিউড সিনেমায় কাজ করলে কোন চরিত্রে কাজ করতে চান এমন প্রশ্নের উত্তরে শাকিব খান বলেন, সবে তো এখানে পা রাখলাম ভাই। আর এখানে বসেই তো পাশে একজন সুন্দরী বসিয়েছি। কিছুদিন সময় দেন। এছাড়া জেনে খুব ভালো লাগলো- বাংলাদেশের বংশোদ্ভুত অনেক টেকনেশিয়ান হলিউড সিনেমায় কাজ করছেন। যারা যারা এখানে ঢুকেছে তারা প্রত্যেকেই কিন্তু সফল।’

শাকিব খান আরো বলেন, ‘নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমা ‘এক্সট্রাকশন’। এই সিনেমাটি কিন্তু আমাদের বাংলাদেশকে নিয়ে করা হয়েছিলো। রেটিংয়ের দিক থেকে এটি ছিলো কিন্তু সবার উপরে। এটা তো আমাদের দেশের জন্য খুশির একটি বিষয়। আগামী দিন চরিত্র কোনটা দেবে সেটা তো জানিনা তবে কাজ করবো।’

যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা অর্থাৎ গ্রীনকার্ড পাওয়া এবং বাংলাদেশে যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে শাকিব খান বলেন, ‘গ্রীনকার্ড অনেক আগেই গেয়েছি। এখন ফিরে যাওয়ার সময় হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই দেশে চলে যাচ্ছি। তবে এবার আর তারিখ বলবো না। কারণ এর আগে দুই-তিনবার তারিখ বলে মিস হয়েছে। এবার দেশে ফিরেই বলবো।’ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বলেন,‘পরিশ্রম তো করতে হয়েছে এবং এখনো করছি। এরকম পরিশ্রম অনেকেই করেন। কিন্ত সবাই তো হতে পারেন না। এজন্য কপাল লাগে। মাশাআল্লাহ আমার কপাল বড়, সেটি বড় একটি ব্যাাপার।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইউএস সুপ্রিম কোর্টের বাংলাদেশী-আমেরিকান এটর্নী এবং কুইন্স ডেমোকেটিক পার্টির ডিষ্ট্রিক লীডার এট লার্জ মঈন চৌধুরী, ডা. চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাহাত মুকতাদির, রায়হান জামান ও শাহনেওয়াজ, বিশিষ্ট রিয়েল এষ্টেট ইনভেষ্টর নুরুল আজিম, সঙ্গীত শিল্পী রানো নেওয়াজ, বারী হোম কেয়ার-এর আসেফ বারী টুটুল ও মুনমুন হাসিনা বারী, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন-জেবিবিএ’র একাংশের সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, খলিল বিরিয়ানী হাউজের কর্ণধার শেফ খলিলুর রহমান, কমিনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট ময়নুজামান চৌধুরী প্রমুখ।

শেয়ার করুন